ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:০৪

প্রিন্ট

চট্টগ্রামে বিখ্যাত যারা

চট্টগ্রামে বিখ্যাত যারা
রাউজানের সাহেব বিবি মসজিদ, চট্টগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
ফিচার ডেস্ক

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। বন্দরনগরী নামে পরিচিত শহর, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাহাড়, সমুদ্রে এবং উপত্যকায় ঘেরা চট্টগ্রাম শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত।

ঢাকার পরেই চট্টগ্রাম দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে দেশের সর্ববৃহৎ বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটি এশিয়ায় ৭ম এবং বিশ্বের ১০ম দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শহর।

চট্টগ্রাম বহু বিখ্যাত লোকের জন্মস্থান। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অনুপম সেন, সূর্য সেনের মতো বহু বিখ্যাত লোকের জন্মস্থান চট্টগ্রাম। আজ পরিচিত হবো এমনই কিছু বিখ্যাত ব্যক্তিদের সাথে।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার যিনি প্রীতিলতা ওয়াদ্দের নামেও পরিচিত। তার জন্ম ১৯১১ সালের ৫ মে। ডাকনাম রাণী, ছদ্মনাম ফুলতারা, একজন বাঙালি ছিলেন, যিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহিদ ব্যক্তিত্ব। তৎকালীন পূর্ববঙ্গে জন্ম নেয়া এই বাঙালি বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে তখনকার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং জীবন বিসর্জন করেন।

বিনোদ বিহারী চৌধুরী

বিনোদ বিহারী চৌধুরী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন বিপ্লবী কর্মী যিনি বিপ্লবী সূর্য সেনের সহকর্মী ছিলেন। তিনি ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালি থানায় জন্মগ্রহণ করেন।

অনুপম সেন

ড. অনুপম সেন বাংলাদেশি সমাজবিজ্ঞানী। বর্তমানে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা এই সমাজবিজ্ঞানী ২০১৪ সাল শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন। অনুপম সেন ১৯৪০ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।

মুহাম্মদ ইউনূস

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক। তিনি ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক। অধ্যাপক ইউনূস প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার সহ আরো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সূর্য সেন

সূর্য সেন বা সূর্যকুমার সেন যিনি মাস্টারদা নামে সমধিক পরিচিত। তার ডাকনাম ছিল কালু। ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। সূর্য সেন ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম রাজমনি সেন এবং মায়ের নাম শশী বালা সেন।

আবুল কাসেম খান

আবুল কাশেম খান একজন রাজনীতিবিদ, আইন শাস্ত্রজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি। তিনি সাধারণত একে খান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯০৫ সালের ৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানার মোহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী

দেশপ্রম ও জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী ছিলেন অসীম সাহসী একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ২৩ মার্চ ১৮৮৬ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ী গ্রামে অভিজাত উজির বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

আবদুল করিম

আবদুল করিম বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার চাপাছড়িতে।

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী বা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ হলেন একজন সুফি সাধক ও মাইজভান্ডারী তরীকার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী নামেই বহুল পরিচিত। আহমদ উল্লাহ ১৮২৬ সালে ১৪ জানুয়ারি (১ম মাঘ, ১২৩৩ বাংলা সন) চট্টগ্রাম শহর হতে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে তৎকালীন প্রত্যন্ত মাইজভান্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

নুরুল ইসলাম

জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক, যিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও অধ্যাপনা জন্য বিশেষ খ্যাতিমান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ডা. নুরুল ইসলামের জন্ম ১৯২৮ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার মোহাস্মদপুর গ্রামে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক স্তম্ভপ্রতিম কথাশিল্পী। কল্লোল যুগের ধারাবাহিকতায় তার আবির্ভাব হলেও তিনি ইউরোপীয় আধুনিকতায় পরিশ্রুত নতুন কথাসাহিত্য বলয়ের শিলান্যাস করেন। জগদীশ গুপ্ত, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের উত্তরসূরি এই কথাসাহিত্যিক অগ্রজদের কাছ থেকে পাঠ গ্রহণ করলেও বিষয়, কাঠামো ও ভাষা-ভঙ্গিতে নতুন এক ঘরানার জন্ম দিয়েছেন। তার জন্ম চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায়, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট।

আবুল ফজল

আবুল ফজল বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাষ্ট্রপতির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি মূলত একজন চিন্তাশীল ও সমাজমনস্ক প্রবন্ধকার। তার প্রবন্ধে সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টিসম্পন্ন মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। আবুল ফজল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

এ-ছাড়াও এ জেলায় জন্মগ্রহণকারী অন্যান্য প্রখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন :

আল্লামা এম. এ. মান্নান

আ জ ম নাছির উদ্দিন

এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী

আবদুল হক (বীর বিক্রম)

আবদুল করিম (বীর বিক্রম)

এম হারুন-অর-রশিদ (বীর প্রতীক)

আবদুল গফুর হালী

ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক

মুহাম্মদ ইব্রাহিম

ড.অছিয়র রহমান

প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী

আহমদ ছফা

আহমদ শরীফ

মাহবুব উল আলম চৌধুরী (কবি)

মাহাবুব উল আলম (সাহিত্যিক)

শাবানা

শাহ মুহম্মদ সগীর

শেফালী ঘোষ

শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব

আসকর আলী পন্ডিত

রমেশ শীল

সত্য সাহা

কুমার বিশ্বজিৎ (শিল্পী)

আইয়ুব বাচ্চু (শিল্পী)

তামিম ইকবাল (ক্রিকেটার)

আফতাব আহমেদ (ক্রিকেটার)

পার্থ বড়ুয়া (গায়ক)

সুকুমার বড়ুয়া (লেখক)

সুব্রত বড়ুয়া (লেখক)

সুজন বড়ুয়া (লেখক)

এছাড়াও আরো অনেক গুনি লোকের জন্মস্থান চট্টগ্রাম। যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে দেশের উন্নতির জন্য কাজ করে গেছেন। তাদের কথা জাতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত