ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:২৯

প্রিন্ট

অবশেষে ইরান ছাড়লেন অলিম্পিকে পদকজয়ী কিমিয়া

অবশেষে ইরান ছাড়লেন অলিম্পিকে পদকজয়ী কিমিয়া
অনলাইন ডেস্ক

সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে স্থায়ীভাবে দেশ ছাড়ার কথা ঘোষণা দিলেন অলিম্পিক গেমসে ইরানের একমাত্র নারী পদকজয়ী কিমিয়া আলিজ়াদে। ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী জানিয়েছেন, এক জন নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে সরকারের তরফে কোনও সহযোগিতা পাননি তিনি। তার অভিযোগ, ইরান কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের ক্রীড়াবিদদের ব্যবহার করে এবং তাদের যথেচ্ছ অপমান করে। রাজনৈতিক ব্যবস্থার এই ‘ভণ্ডামি’সহ্য করতে না-পেরেই তিনি দেশত্যাগী হচ্ছেন বলে জানান কিমিয়া। রোববার সোশ্যাল মিডিয়ায় কিমিয়া নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

২০১৬ সালের রিয়ো অলিম্পিকে তায়কোয়ন্দোয় ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন কিমিয়া। সে দিনের অষ্টাদশী তায়কোয়ন্দোর পোশাক পরেও ধর্মীয় প্রথা মেনে মাথা ঢেকে রিংয়ে নেমেছিলেন। তার জয় প্রশংসা কুড়িয়েছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি ও অন্যান্য রক্ষণশীলদের। মনে করা হয়েছিল, ২০২০ সালের টোকিয়ো অলিম্পিক্সে অংশ নিয়েও ইরানের হয়ে পদক আনতে পারেন এই তরুণী। যদিও সে সম্ভাবনা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।

‘কী ভাবে শুরু করব? হ্যালো বলব, বিদায় বলব, না দুঃখপ্রকাশ করব?’—ইনস্টাগ্রামে কিমিয়ার বক্তব্য শুরু হয় এ ভাবেই। তিনি জানান, তায়কোয়ন্দো, নিরাপত্তা এবং সুস্থ, আনন্দময় জীবন ছাড়া আর কিছুই চাননি তিনি।

তার ক্ষোভ, ‘আমি এ দেশের সেই হাজার হাজার মেয়ের একজন, যাদের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে খেলে চলেছে সরকার। মিথ্যা, ভণ্ডামি, অবিচার ও স্তাবকতার টেবিলে আর বসতে চাইনা আমি।’

তার অভিযোগ, দেশ তার অর্জিত মেডেল নিয়ে মাতামাতি করলেও তিনি যে খেলাটি বেছেছেন তার জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছে। অভিমান করে কিমিয়া লিখেছেন, ‘আমি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নই। আমরা কেউই গুরুত্বপূর্ণ নই। আমরা সবাই আসলে যন্ত্র। তারা যেখানে চেয়েছেন, আমাকে নিয়ে গেছেন। যা যা নির্দেশ দিয়েছেন, অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করেছি।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মনে করছে, কিমিয়া নেদারল্যান্ডসে চলে গিয়েছেন। সেখান থেকেই টোকিয়ো অলিম্পিকে অংশ নেবেন। তবে তিনি ইরানের হয়ে আর খেলবেন না।

শুক্রবার ইরানের তায়কোয়ন্দো ফেডারেশনের শীর্ষকর্তা সৈয়দ মহম্মদ জানিয়েছিলেন, কিমিয়া তার বাবা ও কোচকে জানিয়েই নেদারল্যান্ডস গিয়েছেন এবং এই সফর ইরান সরকারের অর্থেই। তার মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে কিমিয়ার দেশ ছাড়ার খবর রটাচ্ছে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলি। যদিও তার পর দিনই এই ‘রটনা’কে সত্য প্রমাণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন কিমিয়া।

জানান, তিনি ইরান সরকারের ‘দুর্নীতি ও মিথ্যের’সহযোগী হতে পারবেন না। তাই দেশ ছাড়ছেন। তবে ‘পৃথিবীর যেখানেই থাকুন, তিনি ইরানের মেয়েই হয়ে থাকবেন।’

কিমিয়ার এই ঘোষণার পরে অনেকেই তার সঙ্গে সে দেশের এক দাবা খেলোয়াড় আলিরেজ়া ফিরোজ়জার তুলনা টানছেন। ১৪ বছরে গ্রান্ডমাস্টার খেতাব পাওয়া এই স্টারও এখন ফ্রান্সের বাসিন্দা।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত