ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:২৯

প্রিন্ট

আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরিষা চাষ

আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরিষা চাষ
হিলি প্রতিনিধি

হিলি সীমান্ত এলাকায় এবার বেড়েছে সরিষার চাষ। আমন চাষ করে ধানের দাম তেমন না পাওয়ায় অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্থ এখানকার কৃষকরা। আর সেই ক্ষতি পুষে নিতেই আমন ধান কাটাই-মাড়াইয়ের পর ৩ মাস ধরে পতিত থাকা জমিতে বোনাস ফসল হিসেবে এবার সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ। সড়ক দিয়ে চলতে এদিকে-ওদিকে তাকালেই চোখে পড়ছে হলুদের সমারোহ। ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌমাছির দল। তাতে ফসলের মাঠে ছড়াচ্ছে এক নান্দনিক আবহ।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষার উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সরিষা চাষের উপযোগী আবওহায়া থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। সেইসাথে সরিষা দাম বাজারে ভালো পেলে আমনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

উপজেলার চকচকা গ্রামের নাজমুল হোসেন নামের একজন কৃষক বলেন, এবার আমন ধানের তেমন দাম পাইনি। আমন চাষ করে অনেকটাই লোকসান হয়েছে। সেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার আমি ৭ বিঘা মাটিতে সরিষা লাগিয়েছি। আশা করছি এবার আবওহায়া ভালো আছে, ফলনও ভালো হবে। বাজারে সরিষার দাম ভালো পেলে আমনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।

উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের মাসুদ নামের আরো একজন কৃষক বলেন, ধানের উৎপাদন খরচ বেশি, দাম কম। প্রতি বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদে সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক মিলে আট থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু উৎপাদিত ধান বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না।

অন্যদিকে প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে খরচ হয় মাত্র এক হাজার পাঁচশ থেকে এক হাজার আটশ টাকা। ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে ছয় মণ পর্যন্ত সরিষা পাওয়া য়ায়।

বর্তমানে প্রতি মণ সরিষার বাজার মূল্য এক হাজার আটশ থেকে দু’হাজার টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি বিঘা জমি থেকে সব খরচ বাদ দিলেও সাত থেকে আট হাজার টাকা লাভ থাকে।

কথা হয় উপজেলার জাংগই গ্রামের রকিব নামের এক কৃষকের সাথে। তিনি বলেন আমি এবার ১০ বিঘা মাটিতে সরিষা চাষ করেছি। সরিষা কাটাই-মাড়াই করে যে টাকা পাবো, সেটা দিয়ে ইরি-বোরো ধান লাগাবো।

তিনি আরো জানান, সরিষা চাষ করলে বাড়িতে তেল খাওয়া পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে খৈল পাওয়া যায়, এই কারণে আমি সরিষা চাষ করি।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আরজেনা বেগম জানান, জমির অবস্থা বুঝে কৃষকদের সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও সরিষা আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে একশ ৪০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এবারো সরিষার ভালো ফলন হবে এবং দামও ভালো পাবেন তারা। ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় সল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা দিন দিন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, দিনাজপুর জেলার ছোট্ট এই সীমান্তবর্তী উপজেলায় গত মৌসুমে ৭১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২০ হেক্টরে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত