ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ২১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:৪৫

প্রিন্ট

পুলিশি হেফাজতে চলচ্চিত্রকর্মীর মৃত্যু নিয়ে মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া বাবুর মাথায় আঘাতের দাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত শনিবার ভোররাতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মারা গেছেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ফ্লোর ইনচার্জ ও লাইট ম্যানের কাজ করতেন।

পরিবার ও সহকর্মীরা বলছে, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, তিনি থানার হাজতখানায় গলায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে আজ সোমবার মিললো এ মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর ময়নাতদন্ত শেষে মাথায় ও পায়ে আঘাতের দাগ পেয়েছে মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের বিভাগ।

তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।

সোমবার বিকাল ৪টায় ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সোহেল মাহমুদ আরো বলেন, মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের দাগ পেয়েছি। আমরা যেসব জায়গা থেকে আঘাতের দাগ পেয়েছি তার প্রতিটির টিস্যু সংগ্রহ করেছি। এসব পর্যালোচনা করে আমরা চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই জানতে পারব তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার গায়ে যে আঘাতের দাগ পেয়েছি সেগুলো মারা যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় তবে আমরা প্রাথমিকভাবে এখন কিছুই জানাতে পারছি না। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসতে দেড় থেকে দুই মাস লাগবে বলে জানান তিনি। এর আগে শনিবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সন্ধ্যার পর বাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবার ও সহকর্মীরা বলছে, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, তিনি থানার হাজতখানায় গলায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত বাবু নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান এলাকায় থাকতেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ফ্লোর ইনচার্জ ও লাইট ম্যানের কাজ করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর সাথে ছয় মাসে আগে তার সাবেক স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসির বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে আলেয়া ফেরদৌসি তার দুই সস্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। তবে বিচ্ছেদের আগে থেকে রোকসানা আক্তার মায়া নামে এক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বাবু। এ সব নিয়ে মায়ার স্বামীর আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর ওপর ক্ষোভ ছিল।

চার মাস আগে বাবুর কাছ খেকে মায়া ১০ লাখ টাকা ধার নেন। এই টাকা বাবু ফেরত চাইলে মায়া টালবাহানা করতে থাকেন। এ সময় মায়া ও বাবুর একান্ত মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন বাবু। এতেও কাজ না হওয়ায় কিছু দিন আগে মায়া ও বাবুর একান্ত কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন বাবু। এই ঘটনায় মায়া তেজগাঁও থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মায়া তেজগাঁও এলাকায় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।

নিহতের সাবেক স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসি বলেন, গতরাতে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। রোববার সকাল ১০টায় আমাকে থানা থেকে ফোন করে বলা হয় আমার স্বামী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তার লাশ শনাক্ত করার পর শুনেছি গতকাল রাস্তা থেকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। তিনি বলেন আমার স্বামীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। সে কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত