ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৩৪

প্রিন্ট

ঘুষের টাকা ফেরত, সেই এসআই ক্লোজড

ঘুষের টাকা ফেরত, সেই এসআই ক্লোজড
পাবনা প্রতিনিধি

গাঁজা সেবনের অভিযোগে দুই প্রবাসীকে আটক করেছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু দাস। এরপর তাদের ছেড়ে দেয়ার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই প্রবাসীকেই সাত দিন করে কারাদণ্ড দিলে ক্ষিপ্ত হয় তাদের পরিবার। ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে ঘুষের টাকা ফেরত চান। বাধ্য হয়ে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে হয় তাকে।

মঙ্গলবারের বিকেলে এ ঘটনার পর ওইদিনই রাতে মিন্টু দাসকে পুলিশলাইনে ক্লোজড করা হয়।

স্থানীয় লোকজন ও ফরিদপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে উপজেলার দেওভোগ বিলের মাঠে বসে কিছু ব্যক্তি গাঁজা সেবন করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর থানার এসআই মিন্টু দাস সেখানে অভিযান চালান। এ সময় গাঁজা সেবনকারীদের কয়েকজন পালিয়ে গেলেও উপজেলার পারফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী মুন্নাফ হোসেন (২৮) ও একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রাসেল হোসেনকে (৩০) আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

মুন্নাফ ও রাসেলের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, এসআই মিন্টু দাস সোমবার সন্ধ্যায় দেওভোগ বিলের পাড় থেকে তাদের মাদক সেবনের অভিযোগ দেখিয়ে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন। রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে দুই দফায় ২০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন ওই এসআই।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় মুন্নাফ ও রাসেলকে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মদ আলী ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ৭ দিনের কারাদণ্ড দেন। এতে দন্ডিতদের আত্মীয়স্বজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং ইএনও’র সিএ এর রুমে এসআই মিন্টু দাসকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ফরিদপুর থানার অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে তাকে উদ্ধার করে।

এসময় রাসেলের চাচা মুনসুর আলী এসআই মিন্টু দাসকে তাৎক্ষণিক ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেন। এসআই মিন্টু থানায় গিয়ে টাকা ফেরত দিতে রাজি হন। কিন্তু উপস্থিত জনতা আরো বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। দেন দরবারের এক পর্যায়ে বিকেলে এসআই মিন্টু ২০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। পরে জনতা শান্ত হয়ে তাকে মুক্তি দেন।

গ্রেপ্তারকৃত মা সুজাতা বলেন, আমার ছাওয়াল ৫ দিন আগে বিদেশ থেনে আইছে। তাক টেহার জন্যি পুলিশ ধরে লিয়ে আইছে। মিন্টু পুলিশ আমার ছাওয়ালেক ছাইড়ে দেয়ার কথা কহা ২০ হাজার টেহা লিছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে এসআই মিন্টু বলেন, আমি মাদকের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযান চালাই। তাই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি কারো কাছ থেকে কোনো ঘুষ গ্রহণ করিনি। তাহলে কিসের টাকা ফেরত দিলেন- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো পরিষ্কার না। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসআই মিন্টু দাসকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপারকে (ফরিদপুর সার্কেল) বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ফরিদপুর থানার ওসি এসএম আবুল কাশেম আজাদ বলেন, এসআই মিন্টু’র ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তার জানা নেই। সে অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, জনতার বিক্ষোভের কথা শুনে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।

ফরিদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম কুদ্দুস বলেন, হট্টগোল শুনে আমার রুম থেকে বের হয়ে দেখি ইউএনও এর সিএ এর রুমে এসআই মিন্টু দাস অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহম্মদ আলী বলেন, দু’জন মাদক সেবনকারী তাদের দোষ স্বীকার করলে তাদের প্রত্যককে ৭দিনের কারাদন্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে অবশ্য অনেককে বিক্ষোভ করতে দেখেছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত