ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

মেট্রোরেল প্রকল্পে জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ, ভোগান্তি চরমে

  রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:১৩

মেট্রোরেল প্রকল্পে জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ, ভোগান্তি চরমে
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল উপশহরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকায় তিন বছর ধরে জমির ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। রাজধানীতে উন্নত রেল যোগাযোগে পূর্বাচলে অধিগ্রহণের জন্য জমি নির্বাচন করলেও তিন বছরেও স্থানীয় জমি মালিকদের সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ করতে পারেনি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এতে গেজেট প্রকাশ করে সংশ্নিষ্ট মৌজায় দলিল সম্পাদন বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন জমি মালিকরা।

সূত্র জানায়, মেট্রোরেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সংযুক্তির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯৮ নং পিতলগঞ্জ মৌজার ২ নং সিটের ১৯৮টি আরএস দাগ এবং ব্রাহ্মণখালী মৌজার ১১টি আরএস দাগে ৩১১ বিঘা জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এমআরটি লাইন-১ এর কর্তৃপক্ষ। এসব জমিতে মেট্রোরেল ডিপো বাস্তবায়নে মাটি পরীক্ষা ও নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করতে গ্যাজেট প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে জমি মালিকদের সঙ্গে তিন বছরেও মূল্য নির্ধারণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতে ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জমি মালিকরা।

জমি মালিক জিন্নাত আলী বলেন, পিতলগঞ্জে ১৫ শতক জমি কিনে বসবাস করে আসছি। এখন শুনছি এখানে মেট্রোরেল হবে। কিন্তু মেট্রোরেল প্রকল্প নিজেও জমি ক্রয় করছে না, আবার অন্য কারও কাছে বিক্রি করতেও দিচ্ছে না। তাই জমি বিক্রি করতে না পারায় অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ানুছ মিয়া বলেন, জমি বিক্রি করতে না পারায় আমার ভাতিজাকে বিদেশ পাঠাতে পারিনি। নিজের ব্যবসাটা বাড়াতে পারছি না।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম ঝিনু ভূইয়া বলেন, এ প্রকল্পের অধীনে আমার ছয় বিঘা জমি রয়েছে। ঠিকাদারি কাজে বিপুল অর্থ লেনদেন করতে ব্যাংক ঋণে জড়িয়ে গেছি। এ ঋণ থেকে মুক্তি পেতে জমি বিক্রি করতেই হবে। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ মৌজার নির্ধারিত দাগে কোনো দলিল সম্পাদন হচ্ছে না।

জায়েদুর রহমান বলেন, আমি পরিবার নিয়ে হজে যাব বলে অর্ধেক টাকা জমা দিয়েছি। বাকি টাকা জমি বিক্রি করে দিতে হবে। কিন্তু জমি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকায় আমি এখন নিরুপায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তিন বছর স্থানীয় জমি মালিকদের সঙ্গে মেট্রোরেলের দেনদরবার ও সভা-সমাবেশ চলছে। এসব সভা-সমাবেশে জমি মালিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সাইদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাটি পরীক্ষা ও নকশা নিয়ে ব্যস্ততার অজুহাতে এতদিন জমির মূল্য নির্ধারণ করতে পারেনি। তবুও দলিল সম্পাদন বন্ধ রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।

রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার শফিউল বারী বলেন, সরকার মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১ ডিপো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্নিষ্ট মৌজার জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ধরনের গেজেট পাওয়ার পর শুধু নির্ধারিত দাগে জমি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ আছে।

ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, দু'পক্ষের সঙ্গে চূড়ান্ত আলাপ করে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।

মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১ এর সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আবদুল ওয়াদুদ বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তেই সেখানকার জমি অধিগ্রহণ কাজ চলমান। নানা পর্যবেক্ষণের পর শিগগিরই অধিগ্রহণ করে বিল প্রদান শুরু হবে। এতে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত