ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

বরগুনায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু: লাশ নিয়ে বিক্ষোভ, সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশের দাবি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৪  
আপডেট :
 ০৪ জুন ২০২৬, ২২:৫০

বরগুনায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু: লাশ নিয়ে বিক্ষোভ, সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় মা ও তার দুই মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘটন ও সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

স্বজনদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মা ও দুই মেয়েকে ডাকবাংলোয় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনও কারণে তারা আত্মহত্যার মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

এর আগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

বুধবার বিকাল ৪টার দিকে শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) ও তার দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) লাশ উদ্ধার করা হয়।

ইতি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী (চুক্তিভিক্তি) কর্মচারী ছিলেন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)। তিনি বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি সড়কের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী।

এদিন বিকালে মরদেহ পাওয়ার পরপরই শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্বজনরা। তারা লাশ নিয়ে শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ইতি রানী ও তার দুই মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পৌর শহরের কালীবাড়ি এলাকার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।

এদিন বিকাল ৪টায় একই দাবিতে শহরের প্রধান সড়কে মানববন্ধন করে সর্বস্থরের নাগরিকরা। মাসহ ২ শিশু মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান বক্তারা। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সভাপতি সুশান্ত কুমার।

বক্তাদের অভিযোগ, ময়নাতদন্তে সময় ক্ষেপণ করে মৃত্যুর ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি এ কাজ করা হয়, তাহলে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই বুধবার ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সাংবাদিকদের বলেছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে কক্ষে ওই নারীর বড় মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে ঘুমের ওষুধ ও একটি পানির বোতল পাওয়া যায়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখার সহসভাপতি মানিক সিকদার, কালিবাড়ি মন্দির কমিটি সভাপতি মিলন দাস, পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সদস্য আইনজীবী বাবুল দাস, আখড়াবাড়ি মন্দির কমিটির সদস্য খোকন কর্মকার এবং জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুজ্জামান টিপন উপস্থিত ছিলেন।

বরগুনা সদর থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেন, ‘‘পরিবারের জায়গা থেকে বিক্ষোভ করতেই পারে। পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।’’

ময়নাতদন্ত দেরি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের বিষয়টা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, এটা আমাদের হাতে না। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা তদন্ত শেষে বলতে পারব।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত