ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ৪২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২০, ০০:০১

প্রিন্ট

মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন শুরু

আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে ভিন্নরূপে বাংলাদেশ

আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে ভিন্নরূপে বাংলাদেশ

Evaly

জার্নাল ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মাধ্যমে আজ ১৭ মার্চ মঙ্গলবার নতুন এক ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণ রাত ৮টায় আতশবাজির মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে পিক্সেল ম্যাপিংয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যথাযথ সম্মাণ ও শ্রদ্ধা প্রদর্শণের জন্য শুভ এই ক্ষণটির জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে জাতি। এরইমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নগর ও মহানগরগুলো সেজেছে নতুন রূপে। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে নানামুখী অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে।

আড়ম্বরপূর্ণ এই আয়োজন উদযাপনে একেবারে ভিন্নরূপে সাজানো হয়েছে রাজধানীর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ও জাতীয় সংসদ ভবনকে। এই দুটি স্থান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। তবে বিশ্ব্যব্যাপী ভয়াল থাবা দেয়া ভাইরাস করোনার কারণে এবারের অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন না দেশবাসি। ঘরে বসে টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে হবে ঝাঁকঝমকপূর্ণ এই আয়োজন। মুজিব জন্মশতবর্ষের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনা ছাড়াও বক্তব্য রাখবেন বিশ্ব নেতা ও সরকার প্রধানরা। জাতীয় সংসদে স্থাপিত বিশাল প্রজেক্টরের মাধ্যমে রেকর্ডেড এই বক্তব্য প্রচার করা হবে।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠান সাজানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এশিয়াকি সোসাইট জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মূল আয়োজন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিপুল জনসমাগম করে যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিলো সেটি হচ্ছে না। তাই সে অনুষ্ঠানের কিছু অংশ দেখানো হবে জাতীয় সংসদ চত্বরে। প্যারেড গাউন্ডের অনুষ্ঠান স্থগিত হলেও রেকডিং করে সেই অনুষ্ঠান সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্থাপিত জায়েন্ট স্কিনের মাধ্যমে দেখানো হবে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত ৮টায় জন্মগ্রহণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আনন্দঘন সেই সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান রাত ৮টায় আতশবাজি ও ফায়ারওয়ার্কসের মাধ্যমে শুরু হবে অনুষ্ঠানমালা। প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট ধরে চলবে আতশবাজি। পুরো অনুষ্ঠানটি চলবে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে। আলোকসজ্জার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হবে এখানে। যেহেতু করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে, তাই সংসদের দক্ষিণ প্লজার অনুষ্ঠানও সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। ওখান থেকে নির্ধারিত গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করবে। আর সেই অনুষ্ঠান টিভির মাধ্যমে সারাদেশের মানুষ উপভোগ করবে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে দেখানো হবে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের ভাষণের উদ্ধৃতি ও বিভিন্ন মুহূর্ত। সেখানে ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাগুলো তুলে ধরা হবে। এছাড়া আলোকসজ্জার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে। সঙ্গে থাকবে লেজার শো।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো সংসদ এলাকা নতুনভাবে সজ্জিত হয়েছে। বিশাল এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো সংসদ চত্বরের চিত্র পাল্টে গেছে। সংসদে প্রবেশের প্রতিটি পথেই বিভিন্ন রঙয়ের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। লাইটিং ও লেজার শো’র মাধ্যমে ভেসে উঠছে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা। সংসদের লেকের মাঝখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই আঙুল উচিয়ে দেওয়া ভাষণের প্রতিচ্ছবি লেজার শো’র মাধ্যমে দেখানো হবে। এছাড়া সংসদের দক্ষিণ পশ্চিম কোণের মাঠে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিংয়ের বিশাল ক্যানভাসে ভেসে উঠবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

এশিয়াটিক সোসাইটির কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ এবিষয়ে বলেন, জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানটি রেকর্ডিং হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানালা সংসদের স্থাপিত প্রজেকশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৫-৭ মিনিটের আতশবাজি, ফায়ারওয়াকর্স ও লেজার শো। প্রায় দেড়/দুই ঘণ্টা ধরে চলবে অনুষ্ঠানটি।

এদিকে মুজিব জন্মশতবর্ষের আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে জানাতে গতকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, রাত ৮টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর দুই ঘণ্টাব্যাপী ধারণকৃত একটি অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে। রাত দশটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিং প্রদর্শনের মাধ্যমে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হবে।

ধারণকৃত অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১০ জানুয়ারি ক্ষণগণনার মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আমরা দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে বিশ্বের সব প্রান্তে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে সব অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করতে হয়। সেজন্যই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ধারণকৃত অনুষ্ঠান প্রচার করবো। অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজি সরাসরি হওয়ার পর আমরা ধারণকৃত অনুষ্ঠানে যাবো। যার শুরু হবে শিশুকণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর প্রচারিত হবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাণী। এরপরের আয়োজনের মধ্যে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গীত হবে মুজিববর্ষের থিম সং। যাতে দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা। এ অনুষ্ঠানে পিতাকে নিয়ে শেখ রেহানার লেখা কবিতা আবৃত্তি করবেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ৪০ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রয়েছে। দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে যন্ত্রসঙ্গীত। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্য পরিচালক আকরাম খানের পরিচালনায় থাকছে থিয়েটারেটিক্যাল পারফরমেন্স। সবশেষে থাকবে পিক্সেল ম্যাপিং। আতশবাজির মতো এটিও সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্ব নেতা ও সংস্থার প্রধানদের বাণী প্রচারিত হবে। যাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিদ্যা ভল্ডারি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ আল-ওথাইমিন প্রমুখ। এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, স্মারক নোট ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। যা আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় গণভবনে উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৭৭টি মিশনে বঙ্গবন্ধু কর্নার খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানান, আমরা খুবই আনন্দিত মুজিববর্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার খুলতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধুর কূটনীতিতে যত অর্জন তার তথ্য এখানে সংরক্ষিত থাকবে। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় যেসব রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন এবং তিনি যে বিদেশে ভ্রমণ করেছেন তার ছবি ও তথ্য থাকবে এ কর্নারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে মিশনে বঙ্গবন্ধু কর্নারে তার বই, ভিডিও, ছবি সব সংরক্ষিত থাকবে যেন প্রবাসীরা তা পরিদর্শন করতে পারে। মুজিব বর্ষে সারা বছর ধরে আমরা এই কাজ করব। বঙ্গবন্ধুর যে আত্মত্যাগ, নির্যাতিত মানুষের জন্য তার যে প্রেম, শুধু বাংলাদেশি নয় সকল মানুষের সাফল্যে জয়গান গেয়েছেন, সেই পাঠ আমরা সারা বিশ্বে পৌঁছে দিতে চাই। সেই সাথে আমরা যে গত কয়েক বছরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণে যে সাফল্য অর্জন করেছি সেটাও আমরা পৃথিবীতে পৌঁছে দিতে চাই।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত