ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২০, ২১:৫৪

প্রিন্ট

আড্ডা-গণজমায়েতে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি

আড্ডা-গণজমায়েতে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি
করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ঘরে থাকতে বলা হলেও মঙ্গলবার গাইবান্ধার গ্রাম্য হাট-বাজারে দেখা গেছে মানুষের ভিড়।

Evaly

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সরকার সারাদেশে করোনা মোকাবেলায় নানাবিধ পদক্ষেপ নিলেও তাতে সামান্য পরিমাণ ভ্রুক্ষেপ করছেন না গাইবান্ধার মানুষ।জেলা-উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে জেলা সদরসহ ৬টি উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে সব ধরনের দোকানপাট রয়েছে খোলা সঙ্গে চায়ের দোকানের আড্ডা ও গণজমায়েত তো আছেই। এতে জেলাজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।

মঙ্গলবার থেকেই হঠাৎ করেই জেলার প্রায় সব বাজার-ঘাটে গত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে সাধারণ মানুষের আনাগোনা।

জেলা সদরসহ উপজেলাগুলোর হাট-বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা শহরের ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়, স্টেশন রোডের কাচারী বাজার ও সান্দারপট্টি, স্টেশন রোড, বড় মসজিদ মোড়, ব্রিজ রোড, সার্কুলার রোড, ডিবি রোড, বাস টার্মিনাল, খন্দকার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট খোলা। স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলছে বেচাকেনা।

সদর উপজেলার ভেড়ামারা ব্রিজ সংলগ্ন মোল্লা বাজার, পাঁচ জুম্মা, স্কুলের বাজার, গোডাউন বাজার, লক্ষ্মীপুর, দারিয়াপুর, কুমারপাড়া, হাসেম বাজার, মাঠ বাজার, কদমতলি, বাঁধের মোড়, সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর, সাদুল্লাপুর বাজার, বকসিগঞ্জ, মীরপুর, কান্তানগর, নলডাঙ্গা সর্বত্রই জনসমাগম রয়েছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী শামীয়ূর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের রোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে দেশে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক-নৌ-আকাশপথে যোগাযোগ। মঙ্গলবার সেই ছুটির মেয়াদ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মানুষকে বলা হয়েছে ঘরে থাকতে। কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলো অবস্থা আরো ভয়াবহ। গ্রাম্য হাট-বাজারগুলোতে প্রতিদিনই নিয়ম করে খোলা হচ্ছে চা-মিষ্টির দোকান। বসছে কাঁচা বাজার। করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বারবার বলা হচ্ছে ঘরে থাকার কথা। বলা হচ্ছে ভিড় এড়িয়ে চলতে। অথচ গাইবান্ধার স্থানীয়রা নির্দ্বিধায় আড্ডা-গুলতানিতে মজে আছেন।

জনগণ যে সরকারি নির্দেশনা মানছে না, বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহরিয়া খান বিপ্লব। এমনকি নিয়মিত হাত ধোয়ার পরামর্শও মানছেন বেশিরভাগ মানুষ।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ করোনাভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত আছে।পুলিশের গাড়ি দেখলে হাট-বাজারের দোকান-পাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। জনগন দৌড়ে সরে যায়। কিন্তু পুলিশ চলে গলে আবারও জমজমাট হয়ে ওঠে হাট-বাজার।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, দেশব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সর্বত্র মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত এবং জোরদার করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, বুধবার থেকে এই কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

shopno
  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best