ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ মে ২০২০, ১২:৩৮

প্রিন্ট

করোনায় হুমকির মুখে মৎস্য শিল্প

করোনায় হুমকির মুখে মৎস্য শিল্প
ফাইল ছবি

Evaly

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

দেশের প্রায় ৩৮% মাছ চাষ হয় ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এর মধ্যে জেলার ত্রিশাল উপজেলায় ২২% মাছ চাষ হয়। ত্রিশালের বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা গ্রামকে মৎস্য শিল্প গ্রাম বলা হয়। অথচ করোনাভাইরাসের কারণে মৎস্য ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখে পড়েছে।

এ ধলা গ্রাামে রয়েছে ছোট-বড় দুই শতাধিক হ্যাচারি ও নার্সারি। এ সকল হ্যাচারি ও নার্সারি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু ও পোনা উৎপন্ন করা হয়। উৎপাদিত এ রেণু ও পোনাসমূহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় তিন যুগ ধরে গড়ে উঠা এসব খামার থেকে রেণু পোনা বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছে এসব খামারিরা। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান হচ্ছে এলাকার দরিদ্র পরিবারের লোকজন। এতে করে এ গ্রামের মানুষ তাদের জীবনযাপন উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য হচ্ছে। এ কারণে এই গ্রামটি মৎস্য শিল্প গ্রামে পরিচিত হয়েছে।

এশিয়া সায়েন্টিফিক ফিস হ্যাচারি প্রোপাইটার রফিকুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহ সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ত্রিশালের বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা গ্রামে ১৯৮০ সালের পর থেকেই বাণিজ্যক ভিত্তিতে মৎস্য খামার গড়ে ওঠে। প্রথমদের সফল্যে উৎসাহিত হয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক হারে আমাদের গ্রামে গড়ে ওঠে খামার। খামারগুলো এখন তাদের অধিক অর্থে উৎপাদনের অন্যতম মাধ্যম হলেও করোনাভাইরাসের কারণে রেণু ও পোনা উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং আমাদের প্রত্যেকটি হ্যাচারিতে লোকসানের হাড়ি গুনতে হবে এবং কর্মচারীরাও যার যার এলাকায় চলে গেছে এত চরম বিপদে মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন ধলা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গ্রাামের অধিকাংশ বাড়ির কাছাকাছি গড়ে উঠেছে ছোট-বড় মৎস্য খামার। খামারিদের দেওয়া তথ্য মতে, ধলা গ্রামে রয়েছে ছোট-বড় দুই শতাধিক মৎস্য হ্যাচারি ও নার্সারি। এখান থেকে খামার মালিকদের পাশাপাশি এলাকার মানুষ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

মৎস্য শিল্পে জড়িতদের দাবি, করোনাভাইরাসের কারণে রেণু ও পোনা বিক্রি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারি সকল সুবিধা দেয়ার জন্য তারা সংংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারির প্রোপ্রাইটর আঃ বাতেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধলার মানুষ মৎস্য চাষ করে অনেকেই কোটিপতি হয়েছেন। মাছের চাষ এভাবে চলতে থাকলে ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা আরো সফল হবে এটাই নিশ্চিত। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে আমাদের।

এ ব্যাপারে ত্রিশালের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, করোনার কারণে পোনা উৎপাদনকারীরা পোনা বিক্রি করতে না পারায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে খামারিরা মাছ বিক্রি করতে না পারায় পুকুরে খাদ্য দেয়া চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব মাছ চাষিরা এক সঙ্গে মাছ বিক্রি করলে মাছের দাম কমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে মাছ চাষিরা আবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

shopno
  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best