ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২০, ১৭:০৪

প্রিন্ট

স্ত্রী আর দুই সন্তান প্রতিবন্ধী, তবুও মেলেনি ভাতা

স্ত্রী আর দুই সন্তান প্রতিবন্ধী, তবুও মেলেনি ভাতা
পাবনা প্রতিনিধি

‘ইশারায় সবকিছু বুঝানো লাগে বউ, ছাওয়াল-মিয়েক। অনেক সুমায় কথা না বুঝলি ভেজালে পড়া লাগে। আর এরম কইরে তাগারে সাথে ইশারায় কথা কইবের যায়া নিজেও প্রতিবন্ধীর মতন হয়া গ্যাছি। এ কষ্টের শ্যাষ নাই। তারপরও জীবন চালানি লাগগিছে। তবে কষ্ট লাগে এতকিছুর পরও বউ কিংবা ছাওয়াল কারো প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হলো লায়।’

এভাবেই নিজের দুঃখ-কষ্টের দিনলিপির কথা বলছিলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালী সরকারপাড়া গ্রামের দিনমজুর রবিউল ইসলাম।

তার স্ত্রী মারুফা খাতুন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তার দুই সন্তান মারুফ (৬) ও তানিশা (৫) তারাও একইভাবে প্রতিবন্ধী। বয়স হিসেবে তার স্ত্রী মারুফা ও ছেলে মারুফের ভাতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু এখনও তারা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পায়নি।

আলাপকালে জানা গেল, প্রায় ১২ বছর আগে একই গ্রামের মৃত মোক্তার হোসেনের প্রতিবন্ধী মেয়ে মারুফাকে বিয়ে করেন রবিউল। বিয়ের পর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান জন্মলাভ করলেও তারাও প্রতিবন্ধী হয়। এ নিয়ে কষ্টের শেষ নেই তাদের পরিবারের। রবিউল ইসলাম দিনমজুরি করে যা পান তা দিয়ে কোনোরকমে চলে সংসার।

রবিউল ইসলাম বলেন, 'প্রতিবন্ধী মিয়িকে (নারী) বিয়ে করছিল্যাম, আশা ছিল হয়তো আল্লাহ সুস্থ্য ছাওয়ালপাল দিবি। কিন্তু পরপর দুইডে সন্তান দিলিও মায়ের মতো তারাও প্রতিবন্ধী হইছে। পাবনা, ঢাকাসহ মেলা জায়গায় চিকিৎসা করাবের লিয়ে গেছি, অনেক টেকাও খরচ হইছে, কিন্তু কোন ফল পাই নাই।'

রবিউল আরো জানান, তবে কষ্ট লাগে এতকিছুর পরও স্ত্রী বা সন্তান কারো প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হয়নি। মেম্বারকে অনেকবার বললেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি। আইডি কার্ডের কপি নিয়ে গেছে, কি হয় তার অপেক্ষায় তিনি। করোনার মধ্যে তেমন কাজ-কর্ম নেই। সংসার চালানে অনেক কষ্ট হচ্ছে তার।

ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দুই নাম্বার ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম জানান, এ বছর প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের তালিকায় রবিউলের স্ত্রীর নাম দেয়া হয়েছে। হয়তো পেয়েও যাবে ভাতার কার্ড। আর তার দুই সন্তানের ভাতা পাওয়ার বয়স হয়নি। হলে সেটাও করে দেয়া হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকাভুক্ত হতে হলে সর্বনিম্ন বয়স ৬ বছর হতে হয়। এবার জরিপ ছাড়া কেউ ভাতার তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। প্রতিবন্ধী ওই নারীর যদি জরিপ হয়ে থাকে, তবে তিনি ভাতার তালিকাভুক্ত হবেন এবং ভাতা পাবেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত