ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ১৮:২৭

প্রিন্ট

ঈদ সামনে রেখে বেড়েছে মসলার আমদানি

ঈদ সামনে রেখে বেড়েছে মসলার আমদানি
সোহেল রানা, হিলি প্রতিনিধি

আর কিছুদিন পর মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। আর প্রতিবছর এই ঈদকে সামনে রেখে দেশের বাজারে মসলা জাতীয় পণ্যের যেমন চাহিদা বাড়ে, তেমনি বাড়ে দাম। চাহিদা মেটাতে পানিপথে জাহাজে করে এবং বিভিন্ন বন্দর দিয়ে আমদানি করা হতো মসলা। তবে এবার বিশ্বে করোনা মহামারীর কারণে বেশকিছু দেশ থেকে মসলা আমদানি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে গেলো ৮ জুন থেকে সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি-রপ্তানি শুরু হবার পর থেকেই মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় আড়ৎ ও খুচরা বাজারে কমেছে এসব মসলা পণ্যের দাম।

ঈদে দেশের বাজারে মসলার দাম স্বাভাবিক রাখতে বেশি বেশি আমদানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। আর আমদানি বাড়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকারের রাজস্ব।

আমদানি বাড়ায় স্থানীয় আড়ৎ ও খুচরা বাজারে কমেছে আমদানিকৃত আদা, রসুন, জিরা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরণের মসলার দাম। বাজারে কম দামে কিনতে পারায় খুশি স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লকডাউনের আগে হিলির আড়ৎ ও খুচরা বাজারে প্রতি প্যাকেট জিরা বিক্রি হয়েছে ৪৬০ টাকা দরে, এখন ১৮০ টাকা কমে প্রতি প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায়। সাদা এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩২০০ টাকা কেজি দরে, এখন তা ৬০০ টাকা কেজি প্রতি কমে বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকা দরে। ৩৮০ টাকার দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায় এবং ৮৫০ টাকার লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকা দরে।

হিলি বাজারের খুচরা বিক্রেতা সিজার ও লেবু জানান, ঈদের বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। আমদানি বেশি থাকায় এবার সব ধরণের মসলার দাম কম। দাম কম থাকায় ক্রেতারা স্বস্তিতে যেমন কিনছে, তেমনি বিক্রিও হচ্ছে আমাদের। আশা করি এবার মসলার দাম বাড়বে না। দাম কমার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা মসলা কিনতে আসছে এবং বিক্রি ভালো হচ্ছে।

বেশ কিছু ক্রেতা বলেন, করোনার কারণে কিছুটা আয় কমে গেছে আমাদের। সামনে কোরবানি ঈদ। বাজারে মসলা কিনতে আসলাম। এসে দেখি সব মসলার দামই কমছে। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো। এরকম কম দাম থাকলে আমরা মসলা কিনতে পারবো।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, এবার করোনার কারণে বহিঃবিশ্ব থেকে মসলা আমদানি বন্ধ আছে। এ সময় যাতে দেশের বাজারে এই পণ্যের সঙ্কট কিংবা দাম না বাড়ে, সেদিকে লক্ষ রেখে হিলি স্থল বন্দররের আমদানিকারকরা বেশি বেশি মসলা ভারত থেকে আমদানি করছে।

তিনি বলেন, ঈদের আগে আরো বেশি পরিমাণ মসলা আমদানির জন্য ইতিমধ্যে ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি এবার ঈদ উপলক্ষে মসলার দাম বাড়বে না, ক্রেতার নাগালে থাকবে।

হিলি কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আব্দুল হান্নান জানান, করোনার কারণে দীর্ঘ আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে সম্প্রতি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মসলা পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২২ কর্মদিবসে ভারত থেকে বিভিন্ন প্রকার ১ লক্ষ ২০ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন মসলা আমদানি করা হয়েছে। এ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৪ কোটি ৮৫ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত