ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২০, ২১:৪১

প্রিন্ট

পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার, ৩ দিনেও মেলেনি ত্রাণ

পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার, ৩ দিনেও মেলেনি ত্রাণ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কয়েকদিন ধরে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গত ৩ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোর হাজার হাজার পরিবার। এখনো পর্যন্ত পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে তিস্তা পাড়ের লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বন্যার কারণে শিশু ও বৃদ্ধার পাশাপাশি পশুপাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি লোকজন। রান্নার চুলা ও পায়খানায় পানি প্রবেশ করায় তাদের দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ওইদিন রাত ১২টায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় বিপদসীমার ৩৮ সে.মি ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এতে হাতীবান্ধা মেডিকেল মোড় থেকে গড্ডিমারী মেডিকেল মোড় হয়ে বড়খাতা বিডিআর গেট বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে।

শনিবার সকালে সেই পানি কমে বিপদসীমার ১২ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলে ওইদিন রাতে আবার বেড়ে যায় পানির গতি।

রোববার দুপুরের পর থেকে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিকালে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মে ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

কয়েক দিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তাপাড়ের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দির পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের মাঝে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছি। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ জরুরি হয়ে পড়লেও গত ৩ দিনেও সরকারি বা বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণের কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি।

পানিবন্দি লোকজনের অভিযোগ, কারোনার কারণে তারা বেশ কিছুদিন ধরে কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে আছেন। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়ায় তারা বিপাকে পড়েছে। অনেক পরিবার বসতবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেও তাদের মাঝে এখন পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, এবারের বন্যা একটু স্থায়ী হতে পারে। ফলে কয়েক দিন তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ইউএনও ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best