ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৩৮

প্রিন্ট

ইউএনওর ওপর হামলা: চার্জশিট দিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ

ইউএনওর ওপর হামলা: চার্জশিট দিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ
ফাইল ছবি
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি

ঘোড়াঘাটের সদ্য সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনার চার্জশিট দিতে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। একদিকে যেমন দ্রুতই চার্জশিট দেয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে চলছে ত্রুটিমুক্ত চার্জশিট দেয়ার কার্যক্রম।

মামলার তদন্ত কার্যক্রমের সাথে জড়িত পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেহেতু ঘটনাটি চাঞ্চল্যের, সেজন্য মামলার চার্জশিট দিতে কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি দ্রুত চার্জশিট দিতে গিয়ে যাতে কোন ধরনের ত্রুটি না থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে এই হামলার ঘটনার আলামত জব্দকৃত রক্তমাখা বিছানার চাদর, রক্তমাখা কাথা, রক্তমাখা গামছা, রক্তমাখা মশারি, রবিউলের রক্তমাথা প্যান্ড, তার ব্যবহৃত সার্ট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভাঙা তালা, প্লাস্টিকের চেয়ার, মই এসব কিছুই চার্সশিটে উল্লেখসহ আদালতে পাঠানো হবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যেই মামলাটির সাথে সম্পৃক্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলোর প্রধান অংশগুলো আলাদা করা হয়েছে। তাছাড়া এই মামলার যেসব আলামত রয়েছে সেগুলোসহ যাবতীয় তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে তথ্যপুঞ্জ করা হয়েছে। যাতে করে মামলাটির বিষয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন বা ত্রুটি-বিচ্যুতি না থাকে সেজন্য চৌকশ কর্মকর্তারা কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, মামলাটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের একজন স্পেশাল কর্মকর্তা কাজ করছেন।

এদিকে এই মামলার সাথে সম্পৃক্ত বা গ্রেপ্তার করে এখন পর্যন্ত যেসব আসামিকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে এবং জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে তাদের মামলায় সংশ্লিষ্ট রেখেই কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির ওসি ইমাম জাফর বলেন, তাদেরকে জামিনের জন্য পরিবার থেকে আদালতে আবেদন করতেই পারে এবং বিচারক তাদের জামিন দিতেও পারেন। তবে তাদের এই মামলায় সংশ্লিষ্টতা রেখেই আপাতত মামলার কার্যক্রম চলবে।

তথ্যমতে, এখন এই মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন- স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী ঘটনার মূল আসামি রবিউল ইসলাম (৪৩), উপজেলা যুবলীগের সদ্য বহিস্কৃত নেতা আসাদুল ইসলাম (৩৫), উপজেলার চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত ফারাজ উদ্দিনের ছেলে রংমিস্ত্রি নবিরুল ইসলাম (৩৫), একই এলাকার খোকা দাসের ছেলে সান্টু চন্দ্র দাস (২৮) এবং ইউএনওর বাসার প্রহরী নাদিম হোসেন পলাশ (৩৮)।

পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলার ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন ৫ জন। তাদের মধ্যে একজন ক্রিকেটের জুয়ারু শহরের মধ্যবালুবাড়ী এলাকার সাহেব আলীর ছেলে খোকন আলী। তিনি জানিয়েছেন যে, রবিউল তাকে ৪৮ হাজার ৫শ’ টাকা দিয়েছিল। এই টাকা রবিউল ঘটনার রাতে ইউএনওর ব্যাগ থেকে নিয়েছিল। এই ঘটনায় স্বাক্ষী হিসেবে আরও জবানবন্দী দিয়েছেন শহরের ষষ্টিতলা এলাকার সাইকেল গ্যারেজের আইয়ুব আলী ও চৌকিদার মুরাদ হোসেন। তারা ঘটনার দিন বিকেলে রবিউলকে দেখেছে এবং রবিউল ওই গ্যারেজে তার সাইকেলটি রেখে বাসযোগে ঘোড়াঘাটে গিয়েছিল।

এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে স্বাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর বাজারের মুদি দোকানি সিরাজ ও কবিরাজ মশিউর রহমানের ছেলে অলিউল্লাহ। তারা দু’জনেই জানিয়েছে, রবিউলকে তারা ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওসমানপুর বাজারে দেখেছেন। ওইদিন রাত ১১টা পর্যন্ত রবিউল বাজারে ছিল এবং কেন সে এখানে আছে জিজ্ঞাসা করলে ওই দুইজনের কাছে রবিউল জানিয়েছিল 'টিএনও অফিসে কাজ আছে'।

এদিকে পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, রবিউল বলেছেন, চাকরিতে থাকাকালে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভালো ব্যবহার পাননি তিনি। সর্বশেষ ঘোড়াঘাট উপজেলায় চাকরি করাকালে শুরুতে ইউএনও ওয়াহিদা খানম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযানে রবিউলকেও সাথে রাখতেন। কিন্তু মাত্র দেড় মাসের মাথায় আর্থিক দৈন্যতার কারণে ইউএনওর ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার টাকা (রবিউলের ভাষ্যমতে ১৬ হাজার) চুরির দায়ে অভিযুক্ত হন রবিউল। তারপর চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পনা করেন হামলার।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত