ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:১১

প্রিন্ট

অপহরণ নয়, ভালবাসার অপরাধে জেল হাজতে রাব্বি

অপহরণ নয়, ভালবাসার অপরাধে জেল হাজতে রাব্বি
ধামরাই প্রতিনিধি

মেয়ের বয়স ১৮ হয়নি। বয়স পরিপূর্ণ না হলেও পাশের গ্রামের একটি ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করে সে। সেই ভালবাসার টানে মেয়েটি ছেলের বাড়িতে অবস্থানও করে বেশ কয়েকদিন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অবগত ছিলেন। ওই সময় মেয়ের বাবা চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে মেয়েকে ফেরত নিতে দেন দরবারও করেছে। কিন্তু মেয়ে তার প্রেমিককে ছেড়ে তার বাবার কাছে যাবে না- এমন কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।

অবশেষে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা করে মেয়েকে তার বাবা নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।

ভালোবেসে বিয়ে করার অপরাধে পরবর্তীতে মেয়ের বাবা সুমন খান পান্নু অপহরণের অভিযোগ এনে ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দিয়েছেন। বর্তমানে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ৮ মাস ধরে জেল হাজতে শাস্তি ভোগ করছেন অভিযুক্ত প্রেমিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ভুরবারিয়া এলাকার সুমন খান পান্নুর মেয়ের (১৪) সঙ্গে একই ইউনিয়নের কারাবিল গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রাব্বির (১৭) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন সম্পর্ক চলার এক পর্যায়ে মেয়েটি ছেলের বাড়িতে চলে আসে। তখন সোমভাগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির হোসেন ও ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহাবসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে মেয়েকে তার বাবার কাছে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু তখন কথা হয় যদি আবার মেয়ে চলে আসে তখন এই মেয়ের প্রতি কোন দাবি থাকবে না পিতা সুমন খানের।

কিন্তু মেয়ে নিজ বাড়িতে যাওয়ার ১০/১৫ দিনের মধ্যে আবার ছেলে রাব্বির বাড়িতে চলে আসে। তখন সামাজিকভাবে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা করে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই চলতে থাকে তাদের সুখের সংসার।

পরবর্তীতে আরো জানা যায়, হঠাৎ করেই মেয়ের বাবা সুমন খান পান্নু মেয়ের শ্বশুর বাড়ি গিয়ে মেয়েকে একটি অজুহাত দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। মেয়েকে বাড়িতে আটকে রেখে চতুর বাবা সুমন খান বাদী হয়ে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আট মাস ধরে জেল খাটছে অসহায় পিতার সন্তান রাব্বি।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে সোমভাগ ইউনিয়নের ২ জন ইউপি সদস্য ও এলাকার লোকজন মিলে রাব্বি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে দেয়। তবে বয়স কম থাকায় তাদের কাবিন না করে ইমাম দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়।

তবে এ বিষয়ে মেয়ের পিতা সুমন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোন প্রকার কথা না বলে মেয়ের বিয়ে ও তিন মাস সংসার করার কথা নিয়ে কোন প্রকার মন্তব্য করেননি। তবে মুঠোফোনে কথা বলার সময় তিনি বার বার মীমাংসার কথা উল্লেখ করেন।

তবে নির্যাতিত রাব্বির পিতা আবুল হোসেন ও মা মুক্তা বেগমের সাথে কথা বলতেই তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, তিন মাস আমার ছেলের সাথে সংসার করার পর মেয়ের বাবা মিথ্যা কথা বলে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে তাকে আটকিয়ে একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে আমার ছেলেকে জেল হাজতে দিয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ছেলের কোন দোষ নাই। মেয়ে নিজেই রাব্বির বাড়িতে গিয়ে পর পর দুইবার উঠে। পরে তাকে রাব্বির সাথে বিয়ে দেয়া হয়। এখন রাব্বি জেল খাটছে, এটা সম্পূর্ণ অমানবিক। মেয়ের বাবার একটি মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে রাব্বি জেল হাজতে।

মেয়ের গ্রামের ইউপি সদস্য মনির হোসেন বলেন, পুরো ঘটনা মেয়ের বাবা পান্নু মিয়ার বানানো। ছেলে পক্ষের কোন দোষ নেই। আর জান্নাতুলের স্বামী রাব্বির বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা। শুরু থেকেই ঘটনাটা আমরা জানি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহাব বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি আমরা জানি। মেয়ে স্বেচ্ছায় রাব্বির বাড়িতে গিয়ে উঠে। প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি মীমাংসা করে দিই। কিন্তু পরে মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস আবার ছেলের বাড়ি চলে আসে। তখন সকলের সাথে কথা বলেই আমাদের অবগত করে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। পরে মেয়ের বাবা একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে ছেলেকে জেল খাটাচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার আলী বলেন, শুরু থেকেই বিষয়টি পুরোপুরি আমি অবগত ছিলাম। ছেলে পক্ষের কোন দোষ ছিল না। মেয়ের বাবা সুমন খান মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে রাব্বিকে জেল হাজতে দিয়েছে। একটি অসহায় পরিবারকে এভাবে ক্ষতি করা ঠিক হয়নি। তিনি ধামরাই থানায় মামলা না করে কোর্ট-এ অপহরণ মামলা দিয়েছিল। তাই এ অবস্থা। তবে মেয়ের বাবা সুমন খান পুরোপুরি মিথ্যা মামলা করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত