ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১৩

প্রিন্ট

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে ঐতিহাসিক তিন গম্বুজ মসজিদ

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে ঐতিহাসিক তিন গম্বুজ মসজিদ
মেহেদী হাসান বাবু, নাটোর প্রতিনিধি

অযন্ত ও অবহেলায় নাটোরের গুরুদাসপুরে কুসুমহাটি গ্রামের কয়কশ’ বছরের পুরাতন তিন গম্বুজ মসজিদটি ধংস হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। কয়েক বছর আগেও মসজিদটিতে নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব এবং রাস্তা না থাকায় মুসল্লিরা ঐতিহাসিক এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারছেন না।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার তুলশি নদীর তীরবর্তী কুসুমহাটি গ্রামের বৃ-কাশো মৌজায় নির্মিত ৩৭ ফুট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ এবং ১৫ ফুট ৮ ইঞ্চি প্রস্থের মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। মাঝের বড় গম্বুজের বৃত্ত ৩৯ ফুট ৮ ইঞ্চি। মসজিদের পূর্ব পার্শে ২ ফুট ৭ ইঞ্চি দৈর্ঘের দুটি দরজা রয়েছে। ইট, চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথা মসজিদটির ভিতরে ও বাইরে সুদৃশ্য নকশা করা আছে। আলাদাভাবে দুই সারিতে একসাথে ৪০ জন মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটিকে শাহী মসজিদ নামেই জানেন স্থানীয়রা।

জনশ্রুতি রয়েছে, জনৈক সুলতান শাহ নামে এক ধর্নাঢ্য বক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। তবে কোন সময়ে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেননা। দুই থেকে তিনশ’ বা তার বেশি সময় আগে মসজিদটি নির্মিত বলে মত বিভিন্ন জনের। গত পাঁচ বছর আগে কুসুমহাটি, বৃ-কাশো ও বৃ-গরিলা এই তিন গ্রামের মানুষ এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। শুধু মসজিদটিতে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তারা আর এই মসজিদে নামাজ পড়তে যাননা। কুসুমহাটি স্কুলের পাশে নামাজ আদায়ের জন্য নতুন করে একটি মসজিদ তৈরি করেছেন এলাকাবাসী। ফলে অযন্ত ও অবহেলায় ঐতিহাসিক এই তিন গম্বুজ মসজিদটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

এলাকাবাসীর দাবী চলাচলের একটি রাস্তা সহ মসজিদটি সংস্কার করার। রাস্তা হলে তারা আবার ওই মসজিদে নামাজ আদায় করবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আরশাদ আলী বলেন, ‘তিন চার বছর আগেও এ মসজিদে আমরা নামাজ আদায় করেছি। রাস্তা না থাকায় এই মসজিদে আসা যায় না।’

কুশুম হাটি গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, ‘অনেক পুরোন এই মসজিদ। আমরা কেন আমাদের বাপ-দাদারাও বলতে পারেন না কবে এই মসজিদ নির্মাণ করা। তবে লোকমুখে শুনেছি মোঘল শাসন আমলে নির্মাণ হয়ে থাকতে পারে।’

সুলতান শাহর বংশধর আব্দুল মালেক জানান, এই মসজিদ অনেক সুন্দর আর দৃষ্টিনন্দন ছিল। কিন্তু রাস্তা না থাকায় এখন আর আমরা এখানে নামাজ পড়তে পারছি না। এই মসজিদটি সংস্কার করে আবার নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, কুসুমহাটির এই ঐতিহাসিক মসজিদে মুসল্লিরা যেন আবার নামাজ আদায় করতে পারেন তার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ সহ ব্যবস্থা নিবেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, উপজেলায় এ ধরনের আরো মসজিদ বা পুরাকৃর্তির সন্ধান পাওয়ায় এগুলো পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাস্তা নির্মানসহ ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দ্রুত সংস্কার করে আবারও মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের পরিবেশ তৈরি হবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত