ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২০, ১৫:২৫

প্রিন্ট

আরিফ-বাবরসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আরিফ-বাবরসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
সৈয়দ রাসেল, সিলেট প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা ও গ্রেনেড হামলা মামলায় ১০ জন এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিস্ফোরক মামলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এ তিন মামলার মধ্যে ২০০৪ সালে দিরাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড ছোড়া ও মানুষ হত্যা করার পৃথক ২টি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

একই সাথে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগের ঈদ-পরবর্তী জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া। তার এ ঘটনায় হওয়া ২টি মামলার মধ্যে বিস্ফোরক ছোড়ার অভিযোগ গঠন হলেও হত্যা মামলায় সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাবর, আরিফসহ মোত ১১ জনকে হাজির করা হয়। এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজে আদালতে হাজির হলেও বাকি সকলকে সিলেটের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে হাজির করা হয়। আজ এ ৪টি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের ধার্য তারিখ ছিলো।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগের ঈদ-পরবর্তী জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া। আহত কিবরিয়াকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে মারা যান। ওই হামলায় তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত হন। আহত হন ৭০ জন।

ঘটনার পরদিন আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন। পরে মামলা দুটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালে ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী মজিদ খান। পরে ২০০৭ সালে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য ফের সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

মামলার পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেরুন্নেসা পারুল সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা তাজউদ্দিনের ভগ্নিপতি হাফেজ মো. ইয়াহিয়াসহ আবু বকর, দেলোয়ার হোসেন, শেখ ফরিদ, আবদুল জলিল ও মাওলানা শেখ আবদুস সালামকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এর আগে ২০০৫ সালের ১৮ মার্চ প্রথম দফায় ১০ জনের বিরুদ্ধে ও দ্বিতীয় দফায় ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ জন বাড়িয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন ভারতে মারা যান। আর তৃতীয় দফায় আসামির সংখ্যা আরও ৯ জন বাড়িয়ে এ মামলায় মোট আসামি করা হয় ৩৫ জনকে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত