ঢাকা, মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২০:৪১

প্রিন্ট

স্ত্রীর পরকীয়ার কারণেই খুন হন মান্নাত

স্ত্রীর পরকীয়ার কারণেই খুন হন মান্নাত
যশোর প্রতিনিধি

স্ত্রীর পরকীয়ার কারণেই খুন হন যশোরের স্কেভেটর শ্রমিক ইসরাফিল হোসেন মান্নাত (৪২)। তার ভগ্নীপতি শাহ আলমসহ ৭ জন ওই হত্যার সাথে জড়িত। এদের মধ্যে আটক করা হয়েছে ৪ জনকে। একইসাথে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাজে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, ইট ও একটি মোটরসাইকেল।

সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার নিজ কার্যালয়ের আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এই হত্যা সম্পর্কে নানা তথ্য জানান।

আটককৃতরা হলো, যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আল আমিন ওরফে গ্যারেজ আল-আমিন (১৯), পুরাতন কসবা কাঁঠালতলা (নান্টুর বাগান) এলাকার আবু তাহেরের ছেলে রিফাত (১৯), সুজলপুরের আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে রায়হান শেখ (২২) ও শফিকুল ইসলাম বাবুর ছেলে নয়ন হোসেন (২০)।

এদিকে আটক চারজনই সোমবার আদালতে এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আশরাফ হোসেন জানান, গত ২৩ অক্টোবর রাতে নিজের বাইসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন মাটিকাটা স্কেভেটরের হেলপার মান্নাফ। রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। পরের দিন সকালে কারবালা এলাকার রাস্তার পাশ থেকে তার মাথা থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের মা আনোয়ারা বেগম ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬/৭ জনের নামে মামলা করেন। আসামি করা হয় তার জামাই শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের ছেলে শাহ আলম (৪২), তার ভাগ্নে ধর্মতলা এলাকার সলেমানের ছেলে শামীম (২৫), নিহত মান্নাতের স্ত্রী বকচর চৌধুরী পাড়ার নজরুল ইসলামের মেয়ে শারমিন সুলতানা সুমি (২৮) এবং সুমির মা সুফিয়া বেগম (৪৮)। এরপর ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রোববার যশোর অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকা থেকে হত্যায় জড়িত আল আমিনকে এবং যশোর শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকা থেকে রায়হান শেখ, রিফাত ও নয়ন হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মতে হত্যাকাজে ব্যবহৃত জিআই পাইপ, একটি ইট ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত মান্নাতের ভগ্নীপতি শাহ আলমের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা সুমির। এই নিয়ে ওই সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো। মান্নাত-সুমির সংসারে দুইটি সন্তান আছে। আর শাহ আলম-শরিফা বেগমের সংসারে তিনটি সন্তান আছে। শাহ আলমের বেশ কয়েকটি গাড়ি আছে। এছাড়া মাটি কাটার মেশিন স্কেভেটর আছে বেশ কয়েকটি। ওই ব্যবসা করে শাহ আলম কোটি টাকার মালিক বনে যায়। অশিক্ষিত-নিরক্ষর শাহ আলম গোপনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে তার ভাবি সম্পর্কের সুমির সাথে। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়। এই নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় সংসারে। মাস তিনেক আগে সুমি গোপনে তালাক দেয় তার স্বামী মান্নাতকে।

প্রেসব্রিফিং এ আরো জানানো হয়, ২ অক্টোবর দিবাগত রাত তিনটার দিকে মান্নাতকে বকচর করিম পাম্পের সামনে বেশ কয়েকজন মারপিট করে। সে সময় তার চিৎকার আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ৫/৬ জনকে ধরে ফেলে এবং তাদের উল্টো মারপিট করে। মারপিটের শিকার হয় আটক ৪ জনও। সে সময় শাহ আলম ক্ষিপ্ত হয় এবং মান্নাতকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে।

গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মান্নাত বকচর বিহারী কলোনি এলাকার রয়েলের দোকানে চা পান করছিলেন। সে সময় আল আমিন কথা আছে বলে মান্নাতকে ফোনে জানায়। আল আমিনের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে মান্নাত বাইসাইকেল নিয়ে যান দড়াটানায়। সেখানে ৪/৫ জনের সাথে কথা হয় মান্নাতের। ওই কথাবলা দেখতে পায় মান্নাতের ছোট ভাই বাবর আলী। পরে মান্নাত বাইসাইকেলে করে এবং ওই ৪/৫ জন অজ্ঞাত যুবক একটি প্রাইভেটকারে করে কারবালার দিকে চলে যায়। কারবালা এলাকার সিঅ্যান্ডবি রোডের কৃষিবিদ শাহ আলমের বাড়ির সামনে ইট দিয়ে ও একটি জিআই পাইপ দিয়ে শাহ আলমকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় আসামিরা।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে ৭ জন জড়িত। বাকি ৩ জনকে আটকের চেষ্টা চলছে। এই মামলার মূল আসামি শাহ আলম পলাতক রয়েছে। আর নিহতের স্ত্রী শারিমন আকতার সুমি এই হত্যা মামলার আসামি হবেন। তার কারণে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তিনি বলেছেন, শাহ আলমের ড্রাইভার আল আমিন পলাতক রয়েছে। তার ভূমিকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তাকেও আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম বলেছেন, আটক ৪ জনই সোমবার সন্ধ্যার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিচারক তাদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত