ঢাকা, বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:১৫

প্রিন্ট

বন্ধ হয়নি ধামরাইয়ের অবৈধ জুস কারখানা

বন্ধ হয়নি ধামরাইয়ের অবৈধ জুস কারখানা
ছবি: ধামরাইয়ে অবৈধ জুস কারখানা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন করে চলছে ধামরাইয়ে নিউ ভরসা নামে একটি অবৈধ জুস কারখানা। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে এই কারখানাটি।

সরেজমিনে জানা যায়, নিউ ভরসা নামে জুস কারখানাটিকে কয়েক মাস পূর্বে সিলগালা করা হয়েছিলো। বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় কারখানাটিকে সিলগালা করা হয়। তখন কারখানায় কর্মরত ৮-১০ জন কর্মকর্তা কারখানার পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। কারখানার ভিতরে মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রচুর জুসের বোতল পাওয়া যায়। তখন কারখানার মালিকপক্ষের কাউকে না পাওয়ায় বাড়ির মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো। সেই সাথে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কারখানাটিকে সিলগালা করা হয়েছিলো।

কিন্তু বর্তমানে কারখানাটিতে আবার বিভিন্ন ধরনের জুস উৎপাদন করা হচ্ছে। মানছে না কোনো নিয়ম নীতি। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোপনে অবৈধ জুস কারখানাটি চলছে। শুধু জুসই নয়, সাথে আরো তৈরি করা হচ্ছে মাই ফ্রুটো, আইচ ললি, মাই লিচিসহ বেশ কয়েকটি পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো কারখানাটির কোনো বৈধ কাগজপত্রই নাই, নাই পরিবেশের কোনো ছাড়পত্র। তার উপর বিএসটিআইয়ের নকল লগো ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতিটি বোতলের গায়ে বিএসটিআইয়ের লেবেল লাগানো। কারখানাটি সিলগালা করার পর আবার কিভাবে কারখানাটি চালু করা হয়েছে তাতে বোধগম্য নয় এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, নিউ ভরসা নামে আমার এলাকায় একটি অবৈধ জুস কারখানা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছিলো। আবার কারখানা কর্তৃপক্ষ গোপনে তা চালু করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি কয়েকবার গিয়েছি তবে কাউকে পাইনি। কর্তৃপক্ষ খুব চতুর। যে জুস কারখানায় তৈরি করে তা খেয়ে ছোট বাচ্চাদের ক্ষতি হতে পারে। কারখানাটি বন্ধ করে দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সামিউল হক বলেন, অবৈধ জুস কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছিলো। এক লাখ টাকা জরিমানা করাও হয়েছিলো। কিন্তু ওরা বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে বলে জানায়। তাই পরীক্ষার জন্য একটি কক্ষ খুলতে হবে। কিন্তু জানতে পারলাম তারা নাকি রাতের আধারে পণ্য উৎপাদন করে। আবারও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। সেই সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, বিএসটিআইয়ের জন্য দুটি পরীক্ষা করা হবে এই বলে একটি কক্ষ খোলার অনুমতি নেয়। এই সুযোগে তারা গোপনে পণ্য উৎপাদন করে চলছে।

অবৈধভাবে জুসসহ পণ্য উৎপাদন করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বার বার নিউ ভরসা জুস কারখানার মালিক বা ম্যানেজারকে ফোন দিলে তারা ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। শুধু ছল চাতুরী করে যাচ্ছে।

তবে স্থানীয় কয়েকজন এই অবৈধ কারখানায় জুস উৎপাদনে সহযোগিতা করে থাকে বলে অনেকের ধারণা। তারা অন্ধকারে থেকেই মুনাফা অর্জন করে থাকে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন।

তবে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে নিউ ভরসা জুস কারখানাটি চালু রয়েছে সারাক্ষণ বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ থাকে। বুঝার কোনো উপায় নেই ভিতরে কি হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত