ঢাকা, রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৩৯

প্রিন্ট

‘বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে মামুনুলের পরিণতি ভালো হবে না’

‘বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে মামুনুলের পরিণতি ভালো হবে না’
ছবি: নিজস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তা না হলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে নগরীর মৎস্য ভবন থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাট পর্যন্ত এক মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান অবমাননার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী এবং যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবীদের ৬০টি সংগঠন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মামুনুল হককে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ তার জবাব দেবে। এর পরিণাম ভালো হবে না। দৃষ্টান্তমূলক পরিণামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে একটি দেশ ও সংবিধান পেয়েছি। যার জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না সেই সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান এনেছেন একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক শক্তি সেই সংবিধান বিনষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এরা কারা? যারা স্বাধীনতা চায়নি। স্বাধীনতার পর এই ভাস্কর্য বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত হয়েছে। হঠাৎ করে এ ধরনের উক্তি কীসের লক্ষ্মণ? কার ইঙ্গিতে হচ্ছে? এটা কারও ব্যক্তিগত খাম-খেয়ালি নাকি সুপরিকল্পিত সেটা ভালোভাবে ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি এটা জনগণের সরকার। আমাদের ক্ষমতার উৎস বাংলার জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাই কেউ যদি মনে করেন এসব কথা বলে পার পেয়ে যাবেন, তা নয়। স্বাধীনতাকামী মানুষরা কলাগাছ নয়, মান্দার গাছ। কেউ ইচ্ছে করে পিঠ ঘষতে আসলে তার পিঠ উঠে যাবে। দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। দেশে কিছু লোক ধর্ম ব্যবসায়ী হয়ে ইসলাম ধর্মের অবমাননা ও অপব্যাখ্যা করবেন আর ইসলাম প্রিয় মানুষ কিছু বলবে না, এটা হতে পারে না। ধর্ম কারও কাছে লিজ দেওয়া হয়নি। ধর্মের রক্ষক আপনারা কয়েকজন নন। যারা ইসলামকে বিশ্বাস করে তারাই ধর্মের রক্ষক। আমি বিশ্বাস করি অন্য ধর্মাবলম্বীরাও কখনও ইসলামের অবমাননাকর কোনও উক্তি সহ্য করে না। এই ধরনের উক্তি প্রত্যাহার করতে হবে। যদি প্রত্যাহার না করেন, দেখেন নাই ৫২ সালে তার জবাব বাংলার মানুষ কীভাবে দিয়েছিল। ৭১ সালে ধর্ম ব্যবসায়ীদের জবাব কীভাবে দিয়েছিল। দয়া করে ইতিহাস বুঝতে চেষ্টা করুন। ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, ভাস্কর্য মুসলিম অধ্যুষিত সব রাষ্ট্রে আছে। আপনাদের সাধের পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সৌদি আরবসহ প্রায় সবগুলো রাষ্ট্রে আছে। আপনারা সেখানে কোনও কথা বলেন না। হঠাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি কেন আপনাদের দৃষ্টি হলো? এসব দলবাজির জবাব জনগণ রাজপথেই দেবে। তার পরিমাণ ভালো হবে না। অতীতেও হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

মানববন্ধনে যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক আবেদ খান, ইতিহাসের অধ্যাপক, গবেষক মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তসহ আরো অনেকে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত