ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:৩৯

প্রিন্ট

পরের জমিতে ছোট্ট খড়ের ঘরই তাদের সম্বল

পরের জমিতে ছোট্ট খড়ের ঘরই তাদের সম্বল
ছোট্ট ঘর। ছবি: প্রতিনিধি

সোহেল রানা, হিলি প্রতিনিধি

দূর থেকে দেখে মনে হবে জমিতে পানি সেচের জন্য তৈরি করা শ্যালোইঞ্জিন চালিত গভীর নলকূপের ঘর। তবে কাছে গিয়ে দেখা যায় সেই ছোট্ট ঘরে একটি পরিবারের বসবাস। নিজের জায়গা-জমি কিছুই নেই পরিবারটির। স্থানীয় এক ব্যক্তির গভীর নলকূপের ঘরের পাশে খড়কুটো দিয়ে তৈরি করেছেন ঘর। আর সেখানেই বসবাস করেন হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সরেজমিনে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের শাল্টিমুরাদপুর এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ডিজিটাল যুগেও একটি পরিবারের এমন মানবেতর জীবন যাপন। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কিছুই জানে না।

খোলা মাঠ, চারপাশে শুধু ফসলের জমি আর জমি। সেখানেই একটি গভীর নলকূপের সাথে খড়কুটো দিয়ে ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে হাসিনা। সেই ঘরে থাকে স্বামী ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক সন্তান। সেখানে নেই রাস্তাঘাট, নেই পানির ব্যবস্থা কিংবা বিদুৎ।

কথা হয় হাসিনার সাথে। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা স্বামী দিনমুজুর। দিন আনি দিন খাই। নিজের জায়গা জমি কিছুই নেই, নেই কোন বাড়িঘর। একটা ছোট ঘরে থাকি। একদিকে সাপ-পোকামাকড়ের ভয়, অন্যদিকে রাস্তাঘাট কিছু নেই। পানি উঠলে হলে ঘর থেকে বের হতে পারি না।

হাসিনা আরও বলেন, খাবার পানি আনতে যেতে হয় অনেক দূর। রাতের বেলা অন্ধকারে থাকতে হয়। অনেক কষ্ট করে আছি। ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে অনেক কষ্টে থাকি। সরকারের কাছে অনুরোধ আমাকে একটু জায়গাসহ নিরাপদ একটি থাকার ব্যবস্থা যেন করে দেয়া হয়। আমি খুব উপকৃত হবো।

স্থানীয় ব্যক্তি রোকনুজ্জামান বলেন, তারা অনেক কষ্টে থাকে। রাতের অন্ধকারে খোলা মাঠের মাঝে থাকা আসলেই একটি কষ্টের বিষয়। শুধু থাকার সমস্যা নয় বরং সবদিক দিয়েই তারা কষ্ট ভোগ করে।

তিনি বলেন, স্থানীয় কোন জনপ্রতিনিধি তাদের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির কাছে দাবি জানাচ্ছি তাদের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।

ভাদুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসমান জামিল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমার কাছে তো তারা আসেনি। আর আমি জানি না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তাদেরকে আমার কাছে আসতে বলেন। তাদের যদি ঘর না থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্প রয়েছে, সেখানে উপজলো প্রশাসনের সাথে কথা বলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন্নাহার বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত