ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭:০৯

প্রিন্ট

যত অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

যত অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে
ছবি: প্রতিনিধি

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর আশার আলো মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রওশন আলম খানের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হতে বসেছে বলে অভিযোগ। এমন অবস্থায় অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

ইতিমধ্যে কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনসহ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অনিয়ম-দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন অধ্যক্ষ রওশন আলম। তুলারামপুর আশার আলো মহাবিদ্যালয়ের সাথে গড়ে তুলেছেন জে আর খান অটিজিয়াম ও প্রতিবন্ধী স্কুল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রওশান আলম একজন দুর্নীতিবাজ ও রাজাকার পরিবারের সন্তান। তার বিরুদ্ধে নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় রয়েছে নাশকতাসহ প্রায় ১১টি মামলা। জামাত বিএনপির সক্রিয় নেতা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বঙ্গবন্ধু স্কুল এন্ড কলেজ, অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুল করছে- এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কলেজের সাথে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করা হয়েছে। এ নিয়োগ-বাণিজ্য সম্পর্কে জানতে পেরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা ডিও লেটার দিলেও পরবর্তীতে ওই ডিও লেটার বাতিল করার জন্য নতুন করে ডিও লেটার দেন বলে জানা গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতি সহজে বা বাধাহীনভাবে করার জন্য তার ভাইদেরসহ আত্মীয়-স্বজনদের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসিয়েছেন রওশন আলম।

আশার আলো মহাবিদ্যালয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে সদরের পেড়লী গ্রামের মঞ্জুর সরদার, হাতিয়াড়ার ইভা রানী সরকার, বাকলীর মৃনাল অধিকারীরের কাছ থেকে টাকা নিলেও চাকরি দেননি বলে তাদের অভিযোগ।

তুলারামপুরের মালেক মোল্যার ছেলে নুর আলী মোল্যাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে তাদের ১৬ শতক জমি মহাবিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের মধ্যে নিয়েছেন। পরবর্তীতে ছেলের চাকরি না দেয়ায় মনের কষ্টে বাবা মালেক মোল্যা আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া উল্টো নিজের মেঝ ভাইকে জমির দাতা দেখিয়ে কলেজের সভাপতি বানিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ রওশন আলম বলেন, ‘কলেজে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের যোগ্যতাতেই নিয়োগ পেয়েছেন। কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেয়া হয়নি।’

নিজের পরিবারের চারজনের চাকরির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের যোগ্যতানুযায়ী চাকরি হয়েছে। এখানে কোন স্বজনপ্রীতি করা হয়নি।

একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। তবে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়নি বলে দাবি তার।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত