ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:২১

প্রিন্ট

আলুতে আশার আলো

আলুতে আশার আলো
ছবি- প্রতিনিধি

এস.ডি সাগর, জয়পুরহাট প্রতিনিধি

আলু উৎপাদনকারী দেশের অন্যতম জেলা জয়পুরহাটে এবার ব্যাপক পরিমাণ জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এখন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আলুর গাছের সমারোহ। ইতিমধ্যে জেলার কয়েকটি জায়গায় শুরু হয়েছে আগাম আলু তোলা।

গতবারের মতো এবারও এই জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা বিঘাপ্রতি লাভ করছেন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এদিকে ফলন ভালো হওয়ায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত বছর জয়পুরহাট জেলায় আলুর চাষ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু এবার আলু চাহিদা ও বাজারে দাম বেশি থাকায় আলুচাষে ব্যাপক ঝুঁকে পড়েছিল কৃষকরা। এবার জেলায় ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর বেশি।

এদিকে গত বছর আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন। কিন্ত এবার ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কৃষকরা সময়মতো সেচ সুবিধা পাওয়ায়, আবহাওয়া অনুকূল ও রোগবালাই তেমন না থাকায় আলুর গাছ ভালো হয়েছে। তবে বপনের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সঙ্কটের অজুহাতে সার, বীজ ও কীটনাশক বেশি দামে কিনতে হয়েছে কৃষকদের। এতে বিঘাপ্রতি তাদের প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।

বাঁজারে যাচ্ছে আলু। ছবি: এস.ডি সাগর

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে আগাম আলু তোলা। এখন প্রথম পর্যায়ে ভালো দাম রয়েছে। কিন্তু দিনদিন কমতে শুরু করেছে আলু বাজার।

একদিকে যেমন করোনা, অন্যদিকে কৃষকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৩ সালের দুঃসহ এক ইতিহাস। সেসময় কৃষকরা অনেক কষ্ট করে আলুর চাষ করে ৩০ টাকা মণ বিক্রি করেছিল। সেই দুঃসময় এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় তাদের।

কৃষকরা বলছেন, এতো কষ্টের ফসলে শেষ সময়ে যদি বাজারমূল্য ভালো না পাওয়া যায়, তবে সর্বশান্ত হবেন তারা। তবুও তাদের আশা সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে বর্তমান বাজার দরের মতো শেষের দিকেও ভালো দাম পাবেন তারা। তাইতো তাদের চোখেমুখে এখন আনন্দের হাসি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ জেলায় পুরোদমে আলু তোলা শুরু হবে।

ক্ষেতলালের কুড়লগাড়ি গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ৭ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৪৫-৫০ মণ আলু হয়েছে। ১১০০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি করেছি। এতে আমি অনেক খুশি।

পূর্ব কুজাইল গ্রামের আব্দুল আজিজ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, গত বছর ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। এবার করেছি ৮ বিঘাতে। এর মধ্যে ৬ বিঘার আলু তোলা শেষ। প্রতি বিঘায় ২০ হাজার টাকা করে লাভ হয়েছে।

আলু তোলায় ব্যস্ততা। ছবি: এস.ডি সাগর

শাখারুঞ্জ গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, প্রথমে আলু বিক্রি করেছি ১৭০০ টাকা মণে। পড়ে ১৪০০ টাকা। আর এখন বিক্রি করলাম ১১০০ টাকায়। এতেও আমি অনেক লাভবান হয়েছি। তবে সরকারের কাছে দাবি করছি, শেষ পর্যন্ত যেন এমনই দাম থাকে।

সদর উপজেলার কোমরগ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, প্রতি বছর আলুতে অনেক রোগবালাই দেখা দিলে এবারের চিত্র উল্টো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও কোন রোগবালাই না দেখা দেওয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আমি ৬ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। বাজারে ভালো দামও পাচ্ছি।

এদিকে জয়পুরহাটের উৎপাদিত আগাম আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ব্যবসায়ীরা আলু কিনে লাভবান হওয়ায় তারাও বেশ খুশি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স.ম মেফতাহুল বারী বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, জয়পুরহাটে আগাম জাতের আলুর আবাদ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ২ হাজার হেক্টর জমির আলু তোলা শেষ হয়েছে।

তিনি জানান, আলু চাষের শুরু থেকে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রোগবালাই রোধে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে ও প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ দেখা না দিলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত