ঢাকা, রোববার, ০৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:১৫

প্রিন্ট

ইটভাটায় মাটি নেয়ায় ঝুঁকিতে বৈদ্যুতিক টাওয়ার

ইটভাটায় মাটি নেয়ায় ঝুঁকিতে বৈদ্যুতিক টাওয়ার
ছবি- প্রতীকী

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাইয়ে সূতিপাড়া ইউনিয়নে ভাটার খোলা এলাকায় এটিসি ব্রিক্স এর উত্তর-পশ্চিম দিকে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইনের টাওয়ারের আশপাশের ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নেয়া হয়েছে। ফলে টাওয়ারটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্ষা কিংবা বর্ষণে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের এ টাওয়ারটি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ধামরাই পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জোয়ারদার জানান, ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টেজের এই লাইনটি পাওয়ার গ্রিডের। আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই টাওয়ারটি ধ্বসে পড়বে। টাওয়ারটি ধ্বসে পড়লে ঢাকার আশপাশ এবং উত্তরবঙ্গসহ দেশের বৃহৎ একটা অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় তথা গ্রিড বিপর্যয় ঘটবে। বিষয়টি পাওয়ারগ্রীড কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যদি এভাবে মাটি কাটতে থাকে এক সময় শুধু বিদ্যুতের খুঁটিই নয়, আরো বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটতে পারে। এক দিকে শাটি খেকুদের কারণে ফসলি জমি থাকবে না ধামরাইতে।

এ রকম দৃশ্য শুধু ভাটার খোলা এলাকাই নয়, কালামপুর, ভারারিয়া, যাদবপুর ,গাওতারা, বালিয়াসহ প্রায় ইউনিয়নেই চলছে মাটি কাটার ধুম। দেখছে না প্রশাসন। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এই মাটি কাটা। যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায়।

জানা যায়, সূতিপাড়া ইউনিয়নের ভাটার খোলা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি যে কোনো সময় পড়ে যেতে পারে। এতে জমিতে কাজ করা কৃষকসহ যে কোনো মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা কোনো সময়েই পূরণ হওয়ার নয়। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটি ব্যবসায়ী ও ইট ভাটার মালিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এভাবে মাটি কাটতে থাকলে ফসলি জমি ও গাছ পালা কিছুই থাকবে না। যারা মাটির ব্যবসা করে তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটছে। মাটির ট্রাক ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করার কারণে রাস্তার হয়ে উঠেছে বেহাল অবস্থা।

গতকাল সোমবার প্রশাসনের কাছে ভাটার খোলা এলাকায় মাটি কাটার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার ঘটনা জানার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) অন্তরা হালদার তাৎক্ষনিক মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। খুঁটি থেকে ২৫ ফুটের মধ্যে আবার মাটি দিয়ে ভরাট করে দিবেন মাটি ব্যবসায়ীরা এবং তাদেরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান করবেন তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত