ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২১, ১৪:৫৯

প্রিন্ট

চট্টগ্রামের ১৪৯৪ পরিবার পাচ্ছে ‘স্বপ্নের নীড়’

চট্টগ্রামের ১৪৯৪ পরিবার পাচ্ছে ‘স্বপ্নের নীড়’
ছবি- প্রতিনিধি

মনির ফয়সাল, চট্রগ্রাম থেকে

‘আশ্রয়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিব শতবর্ষে দেশেই নির্মিত হচ্ছে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ‘স্বপ্নের নীড়’। ২০২০ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। তার এই মহান ব্রতকে সামনে রেখেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ বিশেষ উপহার হিসেবে দেশের ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারই পাচ্ছে দুর্যোগ সহনীয় সেমিপাকা ঘর ও দুই শতাংশ জমির মালিকানা।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের সেমিপাকা বাড়ি পাবেন গৃহহীন ও ভূমিহীনরা। সারাদেশে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের এই মহাযজ্ঞ প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ১ হাজার ৪৯৪টি পরিবারকে দেয়া হচ্ছে ‘স্বপ্নের নীড়’। ইতোমধ্যে ৪৬৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। আরও প্রস্তুত করা হচ্ছে ৮২৬টি ঘর।

দেশের বিপুল সংখ্যক ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে নিজস্ব ঠিকানা অর্থাৎ জমির মালিকানাসহ সরকারি খরচে নির্মিত বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সামনে আরেকটি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে দুটি বেডরুম, একটি কিচেন রুম, একটি ইউটিলিটি রুম, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা।

দুর্যোগ সহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই রয়েছে সোলার সিস্টেম আর বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি সবগুলো বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে। মুজিববর্ষের সময়কাল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই এসব ঘর নির্মাণকাজ শেষ করতে চায় সরকার।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯৭ পরিবার পাবে ঘর

সরকারের হিসাব মতে, সারাদেশে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৯৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ হাজার ৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯৭, রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩৪, রাজশাহী বিভাগে ৯৬ হাজার ৫০৪, খুলনা বিভাগে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪১১, বরিশাল বিভাগে ৮০ হাজার ৫৮৪ এবং সিলেট বিভাগে ৫৫ হাজার ৬২২ গৃহহীন পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে জমি ও ঘর নেই এমন পরিবারের পাশাপাশি ১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু জরাজীর্ণ বাড়ি -এমন পরিবারও রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুটি প্রকল্পে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ১১৫টি ঘর দেয়া হবে। এর মধ্যে ওই উপজেলায় ৬৫টি ঘর দেয়া হয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও ৫০টি ঘর। একইভাবে পটিয়া উপজেলায় ২০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হবে। যার মধ্যে দেয়া হয়েছে ১১৫টি ঘর। আরও ৮৫টি ঘর প্রস্তুত করা হচ্ছে।

চন্দনাইশ উপজেলায় দেয়া হবে ২৯টি ঘর। ইতোমধ্যে ঘর দেয়া হয়েছে ৫টি, আরও ২৪টি ঘর প্রস্তুত করা হচ্ছে। সাতকানিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৩০টি পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলায় দেয়া হবে ৩৮টি পরিবারকে। যার মধ্যে ১৮টি পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে আর ২০টি ঘর।

বাঁশখালী উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪৭ পরিবারকে দেয়া হবে ঘর। সেখানে ২৫টি ঘর দেয়া হয়েছে। দেয়া হবে আরও ২২টি ঘর, যা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৬০০ পরিবারকে দেয়া হবে ঘর। ওই উপজেলায় এ পর্যন্ত ১৮৫ পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও ৪১৫টি ঘর।

ক্রমান্বয়ে হতান্তর করা হচ্ছে ঘর

কর্ণফুলী উপজেলার ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। এছাড়া বোয়ালখালী উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২০টি, রাউজানে ২৪০টি, হাটহাজারীতে ও আনোয়ারায় ১৫টি করে ও সন্দ্বীপ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৫০টি ঘর দেয়া হবে। এখন এসব ঘর প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তাছাড়া সন্দ্বীপ উপজেলায় ৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ১টি গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে সাড়ে ৯০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা যাবে। এতে সেখানে আর কোনো ভূমিহীন অবশিষ্ট থাকবে না।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন সুলতানা জানান, ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে জুলধা ইউনিয়নে ১৭টি, চরলক্ষ্যায় ৬টি ও শিকলবাহায় ২টি ঘর দেয়া হয়। দ্বিতীয় প্রকল্পে আরও ৫টি ঘর দেয়া হবে। বরাদ্ধ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুজিববর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প হতে প্রদত্ত নমুনা অনুযায়ী কবুলিয়ত দলিল, নামজারী, গৃহ প্রদানের সনদ ও প্রতিটি উপকারভোগীর পৃথক ফোল্ডার করে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। একটি ঘর নির্মাণে সরকার থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বিভিন্ন উপজেলা এ একটি ঘর নির্মাণের অনেক সময় দুই লাখ টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে। তারপরও গুণগত মান ঠিক রাখা হয়েছে।

উল্লেখ, দেশে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রকল্প হাতে নেয়। শুরু থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যারাকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৮টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। যার জমি আছে ঘর নেই, এমন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৪টি পরিবারকে ঘর করে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত