ঢাকা, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ৪৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২১, ১৬:২৮

প্রিন্ট

জেল সুপারসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

জেল সুপারসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই
ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপন কান্তি নাথ (৪৫) নামে এক বন্দিকে নির্যাতন করে আহত করার অভিযোগে জেল সুপার, জেলার, চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৈদ্যুতিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে নির্যাতনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী ঝর্ণা রানী দেবনাথ।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী জানান, আদালত রুপম কান্তি নাথের স্ত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দেন।

মামলায় ভুক্তভোগীর ব্যবসায়ীক অংশীদার সাতকানিয়া উপজেলা কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৃত বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্যের ছেলে রতন ভট্টাচার্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শফিকুল ইসলাম, জেলার রফিকুল ইসলাম ও জেলখানার কর্তব্যরত এক সহকারী সার্জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হেফাজত মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর (১ ও ২) এবং ক, খ , গ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডেভোকেট ভুলন লাল ভৌমিক বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেয়া নির্দেশনা মেনেই মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন করেছি। আদালত শুনানি শেষে পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বন্দি ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে নতুনভাবে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ১১ ধারায় আরও একটি পিটিশন দেয়া হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার রুপম কান্তি নাথ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

রূপমের আইনজীবীর অভিযোগ, মামলার বাদী রতন ভট্টাচার্য অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার প্ররোচনায় রূপমকে কারা অভ্যন্তরে নির্যাতন করা হয়েছে।

এদিকে, গত শনিবার চমেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর মামলার বাদী রূপমের স্ত্রী এক আবেদন দাখিল করেন। এতে তার স্বামীর শরীরের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আঘাতের ধরণ মেডিকেল রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে রাখার আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে বলা হয়েছে কারাগারে তার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক শক, বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। সারা শরীরে আছে আঁচড়, কিল, ঘুষি ও লাথি মারার চিহ্ন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল নগরের কোতোয়ালী থানায় রতন ভট্টাচার্য নামে এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা জালিয়াতি ও আত্মসাতের (৪০৬/৪২০) মামলায় রূপম ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে কারাবন্দি হন। চুক্তিমতো টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওইদিনই আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় কারাগার থেকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ।

রুপমের স্ত্রী ঝর্ণা রানী জানান, চমেক হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের এমএক্স ১২ শয্যায় তার স্বামী চিকিৎসাধীন। আসামিদের নির্যাতনে তার স্বামীর মুখ, হাতসহ সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। অন্ডকোষে আগুনের ছ্যাঁকার চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুরো অন্ডকোষ ও পুরুষাঙ্গ আগুনে ঝলসে গেছে।

তিনি বলেন, আমার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করার একদিন পর তার অসুস্থতার খবর পাই। গুরুতর আহত অবস্থায় আমার স্বামীকে পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর দুইদিন পর্যন্ত স্বামী ডান্ডাবেড়ি পরিহিত ছিলেন।

হাসপাতালের শয্যায় রূপম সাংবাদিকদের বলেন, মামলার আসামিরা আমাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়েছে। ইলেক্ট্রিক শক দিয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপম কান্তি নাথকে নির্যাতন করে আহত করার অভিযোগে সোমবার (১ মার্চ) আদালতে জেল সুপারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রুপমের স্ত্রী ঝর্ণা রানী দেবনাথ। গত মঙ্গলবার (২ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসাইন মোহাম্মদ রেজার আদালত অভিযোগটি ফেরত দিয়ে সেটি জজ আদালতে দাখিলের পরামর্শ দেন।

এরপর গতকাল বুধবার (৩ মার্চ) মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু যথাসময়ে জামিননামা দাখিল না করায় আজ বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) জামিন বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী জানান, হাজতবাস ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে জামিন মঞ্জুর করার পরও যথাসময়ে জামিননামা দাখিল না করায় রুপম কান্তি দেবনাথের জামিন বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত