ঢাকা, রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২১, ১০:২৩

প্রিন্ট

৬ দিন অফিস করে ৩ মাসের বেতন নিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা

৬ দিন অফিস করে ৩ মাসের বেতন নিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা
ছবি প্রতীকী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী ছয়দিন অফিস করে তিন মাসের বেতন তুলেছেন। তার যোগদানের পুরো সময় সাড়ে তিন মাস। ফলে ওই উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাকে নিয়মিত অফিস করতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বার বার চাপ দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

কোনো উপায় না পেয়ে বিষয়টি বিভাগীয় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, অফিসের কর্মচারীসহ সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তার দেখা না পাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব রক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর এ উপজেলায় কন্দর্প নারায়ণ রায়ের বদলীর পর তার স্থলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দ্বিতীয় বারের মত যোগদান করেন তৈয়ব আলী। গত সাড়ে তিন মাসে তিনি প্রথম দিন এসে যোগদান করে চলে গেছেন। পরে এক দিন এসে দুই রাত থেকে তিনদিন অফিস করেছেন। কিছু দিন আগে দুই দিন অফিস করেছেন। সব মিলে তিনি যোগদানের পর মাত্র ছয়দিন অফিস করেছেন।

কোনো কাগজ পত্রে তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে আমি ফাইলপত্র নিয়ে সৈয়দপুরে যাই। শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলীও দিনাজপুর থেকে সৈয়দপুর আসেন। মাঝ পথে বসে ফাইল পত্রে তিনি স্বাক্ষর করেন। এভাবেই চলছে এ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম।

তবে নাম না প্রকাশ শর্তে অপর এক কর্মচারী জানান, তৈয়ব আলী এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় নানা অজুহাতে ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। এবারও যোগদান করে অফিস না করলেও নানা অজুহাতে ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে সরকারি টাকা উত্তোলন করেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অভিযোগ করেন, জরুরি কোনো কাজে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রয়োজন হলে আমরা তাকে পাই না। একটি স্বাক্ষরের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। তারপরও সৈয়দপুর গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয়। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী গত সাড়ে ৩ মাসে মাত্র ৫/৬ দিন অফিস করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ২৪ নভেম্বর যোগদান করলেও ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটিতে ছিলাম। বর্তমানে আমি অসুস্থ, পাশাপাশি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও করোনার কারণে নিয়মিত অফিস করতে পারছি না। সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সব দায়িত্ব দিয়ে এসেছি।

লালমনিরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাকে বার বার নিয়মিত অফিস করতে চাপ দেয়া হচ্ছে তারপরও তিনি নিয়মিত অফিস করছেন না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমি বিষয়টি বিভাগীয় কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবগত করেছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত