ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৪৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৫৯

প্রিন্ট

মোবাইল চুরির অভিযোগে শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

মোবাইল চুরির অভিযোগে শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
নির্যাতনের শিকার শিশু রাকিব গাজী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মোবাইল চুরির অভিযোগে এক শিশুকে গরুর রশি দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কাচি দিয়ে শিশুটির মাথার চুল কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। নির্যাতন করা হয়েছে শিশুটির বাবা-মাকেও।

এদিকে নির্যাতনের পরেই পুরো ঘটনার ভিডিও নির্যাতনকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় মামলা হলে ফেসবুক থেকে ভিডিওটি মুুছে দেয় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গলাচিপা থানা পুলিশ সোহেল মৃধা (৩৮) নামের এক যুবকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে মামলা করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শিশুটির পরিবার। আর পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গলচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম।

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলখালী গ্রামের জুলেল মৃধা মোবাইল চুরির অভিযোগে শুক্রবার ডাকুয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গ্রামের মকবুল গাজী ছেলে রাকিব গাজীকে (১৩) ঘর থেকে ডেকে নেয়। এরপর ফুলখালীতে রেজাউল মৃধার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার দক্ষিণ পাশে রাকিবকে গরুর রশি দিয়ে আমগাছে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করে জুয়েল মৃধা, রাকিব মৃধা, সোহেল মৃধা, এমাদুল মৃধা ও জাকির মৃধাসহ অজ্ঞাত আরও দুই তিনজন।

নির্যাতনের এক পর্যায় রাকিকের বাবা মকবুল গাজীকেও ঘর থেকে গামছা পেঁচিয়ে ছেলের পাশে আনে তারা। ছেলের সামনে তাকেও নির্যাতন করে। নির্যাতনের সময় মকবুল গাজী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে স্ত্রী মোর্শেদা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্বামীকে উদ্ধার করতে চাইলে তার ওপরও চলে নির্যাতন। এসব ঘটনা দুর্বৃত্তরা মোবাইলে ভিডিও করে।

ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আরিফ মিয়া বলেন, ‘শিশুটির বাড়ি আমার ওয়ার্ডে। আমি ঘটনাস্থল গিয়ে ৯ নম্বরের মেম্বরকে খবর দিতে বলি। বিষয়টি আইনিভাবে মীমাংসার কথা বলেছিলাম।’

ডাকুয়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাকিব মোল্লা বলেন, ‘আমি এলাকায় ছিলাম না। আমাকে এমাদুল ফোন দিয়ে জানিয়েছিল। কিন্তু তাকে আইনের হাতে নিতে বলা হয়নি।’

নির্যাতনের শিকার শিশু রাকিব বলেন, ‘আমারে ঘর দিয়া রেজাউল মৃধা ডাইক্কা নেয়। রাস্তায় উঠলে একটা মোবাইল পকেটে ঢুকাইয়া দেয়। এরপর রেজাউল মৃধার বাড়ি নিয়া বলে ‘চোর পাইছি’। এ সময় এমাদুল মৃধা, রাকিব মৃধা, সোহেল মৃধাসহ কয়েকজন মিল্লা (মিলে) একটি গরুর দড়ি দিয়া আমগাছের লগে বাইন্দা আমারে বাঁশের লাডি দিয়া পিডাইছে। হেরা (তারা) লোয়ার রড দিয়া চোখ উডাইয়া দেওয়ার ভয় দেহাইছে।’

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা মোর্শেদা বেগম বাদী হয়ে জুয়েল মৃধা, রাকিব মৃধা ও সোহেল মৃধাকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত তিনজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সোহেল মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত