ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৪৬

প্রিন্ট

মুভমেন্ট পাস

নক ১৬ কোটি বার, পাস তিন লাখ

নক ১৬ কোটি বার, পাস তিন লাখ
ছবি- সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে ঘরের বাইরে বের হতে পুলিশের ‘মুভমেন্ট পাস’ পেতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২২ হাজার ৬৫ বার হিট বা নক করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ওয়েবসাইটটিতে হিট হয়েছে ১৪ হাজার ২৬টি।

গত ১৩ এপ্রিল কঠোর লকডাউন শুরুর আগের দিন সকাল ১১টায় মুভমেন্ট পাসের ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। সে সময় থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এ হিট বা নক করা হয়েছে।

গত ৪৬ ঘণ্টায় ওয়েবসাইটে ঢুকে মুভমেন্ট পাসের জন্য নিবন্ধন করেছেন চার লাখ ৯৭৭ জন মানুষ। এর মধ্যে পুলিশ পাস ইস্যু করেছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৮০১টি।

মুভমেন্ট পাস পেতে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন মানুষ। যার ফলে প্রশ্ন উঠেছে- এতো মানুষ ঘর থেকে বের হলে কঠোর লকডাউনের সুফল আসবে কি? লকডাউনে এতো মানুষ কোথায় এবং কেন যেতে চান?

এ বিষয়ে বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহানা মোবিন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘মুভমেন্ট পাশ নিয়ে এতো মানুষ বের হলে লকডাউনের কোনও সুফল আমরা পাব না। এ পাশ নিয়ে অনেকেই কোনো কাজ ছাড়াই বাসা থেকে বের হচ্ছেন।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, মানুষ মুদির দোকানে যাওয়ার নাম করে পাস নিয়ে ঘুরি কিনতে যায়। এছাড়াও হাসপাতালের নাম করে আত্মীয়র বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ প্রসঙ্গে বাংলামোটরে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মাহমুদ হাসান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘অনেকেই বের হয়ে বলছেন তারা লকডাউন সম্পর্কে জানেন না। আবার কেউ অপ্রয়োজনে ঘুরছেন।’

‘তবে কেউ বের হওয়ার সদুত্তর দিতে না পারলে এবং কারণ ও প্রয়োজন জরুরি মনে না হলে আমরা তাদের নামে মামলা দিচ্ছি’ বলে জানান সার্জেন্ট মাহমুদ।

কঠোর নির্দেশনা কিংবা লকডাউন যেটাই হোক না কেন, এই সাতদিন নিয়ম না মানলে কোনো ছাড় না দেয়ার কথাই জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘একেক জন একেক ধরণের অজুহাত দিচ্ছেন। তবে আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।’

এ বিষয়ে পুলিশ সদর সদর দপ্তর (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) শাখার এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে যারা মুভমেন্ট পাসের জন্য আবেদন করছেন, তাদের প্রয়োজনীয়তার যুক্তিযুক্ত বিবেচনায় আমরা পাস দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবাইতো একই সময়ে একই জায়গা যাচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনে বের হতে চাইলে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না। তবে অযথা বাইরে ঘোরাফেরা করছে কি না সে বিষয়ে পুলিশ পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

তবে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং মাস্ক পরে বের হওয়ার পরামর্শ দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সরকারি বিধিনিষেধ চলাকালে বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে যা‌বেন না। জরুরি প্রয়োজনে বের হতে চাইলে পুলিশের মুভমেন্ট পাস নিয়ে চলাচল করবেন। জরুরি কাজে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

যাদের পাস লাগবে না

সেসব পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত পেশাজীবীদের পরিচয়পত্র দেখালেই চলবে সেগুলো হচ্ছে- চিকিৎসা, ব্যাংকিং, গণমাধ্যম, শিল্প কারখানা, গার্মেন্টস ও উৎপাদন, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সেবা। টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাকবিভাগের সরকারি কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস, বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদেরও মুভমেন্ট পাস লাগবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত