ঢাকা, রোববার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১৯:২৭

প্রিন্ট

বিয়ের এক মাসের মাথায় লাশ হয়ে ফিরল তারামনি

বিয়ের এক মাসের মাথায় লাশ হয়ে ফিরল তারামনি
ছবি- প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

অনেক আশা আর আকাঙ্খা নিয়ে স্বামীর ঘরে গিয়েছিল তারামনি। উনিশ বছরের তারামনি তার ত্রিশোর্ধ স্বামী হাফিজুর রহমান হাবু মিয়ার ঘরে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে প্রবেশ করেন। এক মাস হয়েছে তাদের বিয়ের। এখনো মেহেদীর রঙ হাতে লেগে আছে। সেই তারামনির মরদেহ পাওয়া গেল স্বামীর ঘরেই।

এদিকে মৃতদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী হাফিজুর রহমান হাবু মিয়া। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের চাঁদেরহাট এলাকার দোলারপাড় গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় তারামনির বড় ভাই আজাদুল ইসলাম বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় স্বামী হাফিজুর রহমান হাবু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ মরদেহের সুরৎহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে।ৎ]

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, এক মাস আগে নাগেশ্বরীর দোলারপাড় গ্রামের আবদার আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান হাবু মিয়ার সাথে পার্শবর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার আব্দুস ছালামের মেয়ে তারামনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরিবারে অবস্থান করছিল তারামনি।

সোমবার ভোরে সেহরি খাওয়া শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। অনেক বেলা পর্যন্ত তারামনির সাড়া না পেয়ে তাকে ডাকতে যায় বাড়ির লোকজন। ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙতে গিয়ে সবাই লক্ষ্য করেন দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো।

বরে দরজার বাইরের ছিটকিনি খুলে বিছানায় তারামনিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার নাকে ফেনা আটকে ছিল। পরে স্থানীয়রা নাগেশ্বরী থানায় ও মেয়ের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়।

তারামনির বড় ভাই আজাদুল ইসলাম জানান, বোনের মরদেহ দেখে সন্দেহ হচ্ছে সেহরি থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো এক সময় হাফিজুর জোড় করে কীটনাশক পান করিয়ে বা শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে। পরে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে সে পালিয়ে যায়। এ কারণে আমি থানায় একটি অভিযোগ করেছি। আমি আমার বোনকে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন কবীর জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। লাশ সুরৎহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও হাফিজুরকে খোঁজা হচ্ছে। সুরৎহাল রিপোর্ট পেলে জানা যাবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত