ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২৮ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২১, ১১:২৫

প্রিন্ট

চট্টগ্রামে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা

চট্টগ্রামে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে ক্রমেই করোনাভাইরাস পরিস্থিতি খারাপের দিকে এগোচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ জন। ওই ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ ধরা পড়ে নতুন ১৯৮ জনের শরীরে। সরকারি হিসেবেই চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৪০ জন। যেখানে নগরের ৪০০ এবং উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন ১৪০ জন। এছাড়া এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৪৭৮ জনের, তারমধ্যে ৪০ হাজার ৪৩৬ জন নগরের ও ১০ হাজার ৪২ জন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা।

চলতি মে মাসের প্রথম তিন দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। আর গত ছয়দিনে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মধ্যে যদি সচেতনতা না বাড়ে, তাহলে সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত্যুও লাগামহীনভাবে বাড়বে। পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরানো নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার মেডিকেল কলেজসহ চট্টগ্রামের ১০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২৪১ নমুনা পরীক্ষা করে ৫৩ জন, বিআইটিআইডি ল্যাবে ৩০৪ নমুনা পরীক্ষা করে ৩১ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৪২ নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০৮ নমুনা পরীক্ষা করে ৩২ জন, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ল্যাবে ১২৪ নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জন, শেভরন ল্যাবে ২৬৭ নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৩৮ নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জন, আরটিআরএল-এ ৫৮ নমুনা পরীক্ষা করে ২৬ জন ও মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ল্যাবে ৯ নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়াও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তারমধ্যে কোনো নমুনায় করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এদিকে চট্টগ্রামে ঢুকে গেছে দুটি দেশের নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস। এতদিন এ বিষয়ে নানা অনুমান প্রকাশ করা হলেও এই প্রথম চট্টগ্রামভিত্তিক একদল গবেষক কাগজেকলমে পরীক্ষা করেই জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ও আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট বা বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস এখন চট্টগ্রামে ঘুরছে। সীমিত আকারে মিলেছে অস্ট্রেলিয়া-আইসল্যান্ড-সুইজারল্যান্ড অঞ্চলভিত্তিক করোনার ধরনও।

নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে যাদের শরীরে, তারা চট্টগ্রামের মেহেদিবাগ, জামালখান, রহমতগঞ্জ, শুলকবহর, মুরাদপুর, কাজির দেউড়ি, বন্দর, কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকা এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজছাত্রী হোস্টেলের বাসিন্দা।

গবেষণায় করোনাভাইরাসের যুক্তরাজ্য ভ্যারিয়েন্টের (B.1.1.7) উপস্থিতি পাওয়া গেছে চট্টগ্রামের মেহেদিবাগের ৩২ বছর বয়সী এক পুরুষ, জামালখান এলাকার ৬৪ বছর বয়সী এক পুরুষ, রহমতগঞ্জ এলাকার ৬৩ বছর বয়সী এক পুরুষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজছাত্রী হোস্টেলের ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী, শুলকবহর এলাকার ৩২ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং মুরাদপুরের ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষের শরীরে।

অন্যদিকে আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের (B.1.351) উপস্থিতি মিলেছে জামালখান এলাকার ২২ বছর বয়সী এক তরুণ, বন্দর এলাকার ৬৫ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং কাজির দেউড়ি এলাকার ৩২ বছর বয়সী এক পুরুষের মধ্যে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া-আইসল্যান্ড-সুইজারল্যান্ড অঞ্চলভিত্তিক করোনার ধরনে মিল পাওয়া গেছে চট্টগ্রামের কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ৩১ বছর বয়সী এক পুরুষের শরীরে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের এই ১০টি নমুনা থেকে নোভেল করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবনরহস্য উন্মোচন করার জন্য ঢাকার বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়। বর্তমানে এই ১০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য পাবলিক ডাটাবেজ জিআইএসএআইডিতে সংরক্ষিত আছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত