ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২১, ০৬:২০

প্রিন্ট

ছাত্রলীগ নেতার হস্তক্ষেপে ধর্ষণের মামলা

ছাত্রলীগ নেতার হস্তক্ষেপে ধর্ষণের মামলা
ছবি- প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথায় বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে একাধিবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ফেলা মাতুব্বর (৩১) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দুই লাখ টাকায় আপোষ করে গর্ভের সন্তান নষ্টের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি জানতে পেরে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজীদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ-খবর নেন। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে অভয় দিয়ে তাকে সকল প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে ছাত্রলীগ সভাপতির হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত ফেলা মাতুব্বরসহ আরো বেশ কয়েক জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সালথা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, শুনলাম ছাত্রলীগের সভাপতি এসে থানায় মামলা করিয়েছেন। মামলা হওয়ায় আমরা খুশি। এমন অপরাধীর বিচার হওয়া উচিত। ওই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত ফেলা মাতুব্বর সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামের বকা মাতুব্বরের ছেলে। ফেলা বিদেশে চলে গেছেন বলে দাবি তার পরিবারের। তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য, ফেলা দেশেই পালিয়ে আছেন।

জানা যায়, আন্তঃসত্ত্বার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা তরুণীর সাথে বিয়ের জন্য ফেলাকে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু ফেলা বিয়ে করতে কিছুতেই রাজি না হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক নুরুল ইসলাম মাতুব্বর, আবুল খায়ের, বকুল মাতুব্বর ও সায়েম মোল্যাকে ম্যানেজ করে তাদের দিয়ে তার পরিবারকে আপোষের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে ১৫ এপ্রিল ও ২০ এপ্রিল রাতে ওই প্রভাবশালীরা পাশের কুমাপট্টি গ্রামে তরুণীর খালু নান্নু মোল্যার বাড়িতে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি গোপনে আপোষের ব্যবস্থা করেন। এসময় গর্ভে থাকা সন্তানকেও নষ্ট করার সিদ্ধান্ত দেন তারা।

তামজীদুল রশিদ রিয়ান বলেন, সালথায় গিয়ে মেয়েটি যাতে ন্যায়বিচার পান সেই ব্যবস্থা করে আসছি। তরুণীর পরিবারকে বলে এসেছি সামনে আইনি প্রক্রিয়ায়ও সাহায্য লাগলে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ তাদের পাশে থাকবে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান বলেন, নারানদিয়া গ্রামের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এজহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। আর এ বিষয়ে বিস্তারিত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত