ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ১০ মে ২০২১, ১৭:৪৮

প্রিন্ট

১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চুরি যাওয়া নবজাতক উদ্ধার

১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চুরি যাওয়া নবজাতক উদ্ধার
ছবি- প্রতিনিধি

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে ১৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নরসিংদী সদরের ব্রাহ্মন্দী এলাকার চিত্তরঞ্জন মালাকারের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিম সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ রাসেল শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, রোববার সকালে বাচ্চাটার নানি নরসিংদী সদর হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখাতে যান। সিরিয়ালের জন্য শিশুটির নানি পরীবানু অপরিচিত এক নারীর কোলে বাচ্চাটি রেখে নিচতলা থেকে তার স্বজনদের ডাকতে যান। এরই ফাকে দুইদিন বয়সী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান সেই অপরিচিত নারী।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। চুরির পরেই হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কাজ শুরু করে পুলিশ। এরই মধ্যে দুপুরে চুরি হওয়া নবজাতকের নানি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ব্রাহ্মন্দী এলাকার চিত্তরঞ্জন মালাকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, চিত্তরঞ্জনের মেয়ে লিপিকার বিয়ে হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। পরপর দুইটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পরে এখনো তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখনো তার গর্ভে আরেকটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কন্যা সন্তানের জন্য লাঞ্ছনার স্বীকার লিপিকা একটি পুত্র সন্তানের জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছে দেন-দরবার করে। পরে অপরিচিত নারীটি তাকে একটি পুত্র সন্তান এনে দেয়ার আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন অপরিচিত ওই নারী নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা দুইদিনের নবজাতক শিশুটিকে কৌশলে তার নানির কাছ থেকে চুরি করে লিপিকার হাতে তুলে দেয়। আর এই বাচ্চা এনে দেয়ার কারণে লিপিকা ওই নারীকে দুই হাজার টাকা দেন।

নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারে প্রযুক্তি আমাদের সহায়তা করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা চুরি করা নারীকে শনাক্ত করেছি। সবশেষ সদরের পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী এলাকার চিত্তরঞ্জন মালাকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নবজাতকটি উদ্ধার করি ও মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেই।

অভিযানের সময় যে নারী নবজাতকটিকে চুরি করেছে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো মামলা ও কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তবে যে নারীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত