ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

যুবক নূর আলম এখন অন্য চাষীদের মডেল

  আনিছুর রহমান শামীম, শ্রীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২১, ১০:২২  
আপডেট :
 ১৩ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৪২

যুবক নূর আলম এখন অন্য চাষীদের মডেল
ছবি: প্রতিনিধি
আনিছুর রহমান শামীম, শ্রীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের যুবক চাষী নূর আলম গত তিন বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ শতক জমিতে ড্রাগন বাগান গড়ে তোলেন। চতুর্থ বছরেই প্রথম ড্রাগন ফল বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করেন। চলতি তথা পঞ্চম বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করেছেন।

বাগানে ফুল ও ফল থাকা সাপেক্ষে আরও এক লাখ টাকা আয় করার আশা পুষছেন। তিনি তার আশার থেকেও বেশি লাভবান হয়েছেন।

ইতোমধ্যে প্রায় তিন একর জমিতে সাতজন উদ্যোক্তাকে ড্রাগন চাষের পরামর্শ দিয়ে তাদেরও বাগান তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন। তিনজন উদ্যোক্তাকে এক একর জমিতে ড্রাগন বাগান করে দিয়েছেন। আরও দুই একর জমিতে চারজন কৃষকের কাছ থেকে ড্রাগন চাষের অর্ডার পেয়েছেন। কার্ত্তিক মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ড্রাগন চাষের উপযুক্ত সময় বলে জানান ওই ড্রাগন চাষী। এ সময়ে ড্রাগনের বাগান তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন।

চাষী নূর আলম জানান, গত আট বছর আগে বান্দরবান জেলার একটি ড্রাগন বাগানে তিন বছর চাকরি করেন। সেখানে ড্রাগনের চাষবাস ও নানা প্রক্রিয়া দেখে নিজে ড্রাগন বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হন। সেখান থেকে পাঁচ বছর আগে ড্রাগনের ২০টি চারা নিয়ে আসেন।

কিছু জমিতে ড্রাগনের চারা রোপণ করে পরিচর্যা করেন। দ্বিতীয় বছর থেকে ওইসব চারা থেকে অল্পকিছু ফলন পেতে শুরু করেন। ওইসব চারা থেকে বাড়িয়ে সবশেষ ত্রিশ শতক জমি ড্রাগন চাষের আওতায় আনেন।

তিনি জানান, জমি তৈরি ও ড্রাগনের চারা রোপণে তার প্রথম বছর ব্যয় হয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পরে প্রত্যেক বছর পরিচর্যা বাবদ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

গাছে পাতা না থাকায় কোনো কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। ছত্রাকের আক্রমণ হয়। তাই মাঝে মধ্যে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এ চাষে তিনি কোনো কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেননি। নিজের দেখা এবং অভিজ্ঞতা থেকে সফলতা পেয়েছেন।

স্থানীয় ফল দোকানীদের কাছে তিনি ড্রাগন ফল বিক্রি করেন। ঢাকার কারওয়ান বাজার ফলের আড়তে একবার আড়াই’শ কেজি ড্রাগন বিক্রি করেছিলেন। এলাকার চাহিদা পূরণ করতে না পারায় ঢাকার আড়তে নেয়ার প্রয়োজন পড়েনি।

শুরু থেকেই তিনি ৩’শ টাকা কেজি দরে ড্রাগন ফল বিক্রি করছেন। একই দরে তার বাগান থেকেই পাইকার ও ক্রেতারা ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাইকারের চাইতে এলাকার মানুষের কাছে তার বিক্রি বেশি। একেকজন ১০ থেকে ৪০ কেজি কিনে নিয়ে যান। ক্রেতার মাধ্যমে তার বাগানের প্রচার যেমন বাড়ছে তেমনি চাহিদা ও বিক্রি দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাহিদার কারণে অনেককে তিনি ফল দিতে পারছেন না। ড্রাগন চাষে তিনি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন।

এলাকার ক্রেতা তৌহিদ জানান, তিনিও গত ৬ মাস যাবত তার কাছ থেকে ড্রাগন ফল কিনছেন। নিজে খেয়েছেন এবং আত্মীয় স্বজনকে বিতরণ করেছেন।

অপর ক্রেতা ইউসুফ আলী জানান, বিদেশী এ ফল খেতে কেমন তা প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি। পরে বাগান থেকে আপ্যায়ন করায় স্বাদ দেখে কিনতে শুরু করেন। এখনও তার পরিবার এবং স্বজনদের জন্য ড্রাগন ফল কিনে নিয়ে যান।

একই এলাকার আমীর হামজা জানান, তিনি ড্রাগন চাষী নূর আলমকে এক বিঘার কিছু বেশি জমি ড্রাগন চাষের জন্য চুক্তি দিয়েছেন। অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভজনক ড্রাগন চাষে তার মতো অনেকই উৎসাহিত হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোর্ত্তুজ আলী জানান, ড্রাগন, বেদেনা ম্যাংগো, কপি কাজু বাদাম ইত্যাদি নতুন ফসলের ব্যাপারে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে কথা হচ্ছে। রাতে কৃত্রিম আলোতে অসময়ে ড্রাগন ফুল ফুটিয়ে ফলনের বিষয়টিও আমাদের দক্ষতায় এসেছে। ইন্টারনেট থেকে আমরা নতুন এসব ফসলের ব্যাপারে জ্ঞান নিয়ে আমাদের কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছি। তাছাড়া ইতোমধ্যে আমাদের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত