ঢাকা, রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে

রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রনির রিট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২২, ১৫:৫৩  
আপডেট :
 ০৩ আগস্ট ২০২২, ১৫:৫৮

রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রনির রিট
ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশের রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। রেলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে টানা কয়েক সপ্তাহ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর এই রিট দায়ের করেন তিনি।

রিটে চট্টগ্রাম ও গোপালগঞ্জে রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার মহিউদ্দিন রনির পক্ষে এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাপস কান্তি বল। আইন সচিব, রেল সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী তাপস কান্তি বল বলেন, আজ রিট দায়ের করার পর আবেদনটি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করেছিলাম। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এখন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করবো।

গত শুক্রবার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে।

এদিকে, গত ২১ জুলাই রাত ৯টায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কাগদী রেলক্রসিং এলাকায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’ এর ধাক্কায় পাঁচ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।

সেভ দ্য রোডের নামের একটি সংগঠনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সাত মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলপথে ছোট-বড় এক হাজার ৫২টি দুর্ঘটনায় ১৭৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এক হাজার ১৭০ জন। এসব প্রাণহানির মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়ায় রেলপথে দুর্ঘটনায় নিহত ১১ জনও রয়েছেন।

২৪টি জাতীয় দৈনিক, ১৮টি ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যম, ২২টি নিউজ পোর্টাল এবং সারাদেশে সেভ দ্য রোড-এর বিভিন্ন শাখার স্বেচ্ছাসেবীদের তথ্যর ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। এসব দুর্ঘটনার ১৪ জন নিহত এবং ৫২ জন আহত হয়েছেন।

১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১টি। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ১১১ জন, নিহত হয়েছে ২৭ জন। ১ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২২টি। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৮৬ জন, নিহত হয়েছেন ৩১ জন।

১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ১১২টি। আহত হয়েছে ১৬৬ জন, নিহত হয়েছে ৪২ জন। মে মাসে আহত ২২১ জন, নিহত হয়েছে ২৩ জন; দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১২টি।

জুন মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৯৭টি। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ১৭২ জন। নিহত হয়েছেন ১৭ জন। আর জুলাই মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪২টি। ঈদুল আজহার ঈদযাত্রাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছে ২৩২ জন, নিহত হয়েছে ২৪ জন।

বাংলাদেশ জার্নাল/রাজু

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত