ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৮:৪০

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক

দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ আমিরুল হক। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডিয়াম নির্বাচনে মোহাম্মদ আমিরুল হককে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি নির্বাচিত করেন পরিচালকরা।

এর আগে শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ‘উনাইটেড বিজনেস ফোরামের’প্রার্থীরা পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হন।

সোমবার দুপুরে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের চেম্বার কার্যালয়ে নতুন প্রেসিডিয়াম গঠনের লক্ষ্যে পরিচালকদের সভা হয়।

চেম্বার নির্বাচন বোর্ডের উপস্থিতিতে এই সভায় নির্বাচিত পরিচালকদের সর্বসম্মতি ক্রমে প্রেসিডিয়াম গঠন করা হয়। এতে মোহাম্মদ আমিরুল হক টাউন অ্যাসোসিয়েশন ট্রেড গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হন।

এছাড়া সাধারণ বিভাগ থেকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নির্বাচিত হন আমজাদ হোসাইন চৌধুরী এবং সহযোগী বিভাগ থেকে সহসভাপতি হন মশিউল আলম স্বপন।

সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন নব নির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

মোহাম্মদ আমিরুল এর আগে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি সি কম গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সহ-সভাপতি মশিউল আলম বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান।

শনিবার চেম্বারের অর্ডিনারি (সাধারণ) বিভাগে ১২টি পরিচালক পদে এবং অ্যাসোসিয়েট (সহযোগী) বিভাগে ৬টি পরিচালক পদে ভোট হয়।

অর্ডিনারি বিভাগে ১৮৪৩ জন ভোট দেন; যা ৪৬ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং অ্যাসোসিয়েট শাখায় ৮৮২ জন ভোট দেন; যা ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এবার প্রায় এক যুগ পরে সরাসরি ভোটে চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়।

শনিবারের ভোটে অর্ডিনারি (সাধারণ) গ্রুপে নির্বাচিত ১২ জন হলেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, এএসএম ইসমাইল খান, আবু হায়দার চৌধুরী, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, আমান উল্লা আল ছগির, মো. গোলাম সরওয়ার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শফিউল আলম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ও শহিদুল আলম।

অ্যাসোসিয়েট (সহযোগী) গ্রুপের নির্বাচিত ছয়জন হলেন- মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ মশিউল আলম, সরোয়ার আলম খান, মো. জাহিদুল হাসান, মো. নুরুল ইসলাম ও মো. সেলিম নুর।

এছাড়া চেম্বারের ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনে তিনটি করে মোট ছয়টি পদে ছয়জনই প্রার্থী ছিলেন। ফলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ট্রেড গ্রুপে মোহাম্মদ আমিরুল হক (ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার), এসএম সাইফুল আলম ও মোহাম্মদ আকতার পারভেজ এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশনে মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও আফসার হাসান চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

চট্টগ্রাম চেম্বারে ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভোটে ১২ জন সাধারণ শ্রেণিতে এবং ৬ জন সহযোগী শ্রেণিতে পরিচালক নির্বাচিত হন।

এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশনে তিনজন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হন। এরপর পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত হন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের মোট ১৮টি পরিচালক পদে এবার প্রার্থী ছিলেন ৫৩ জন। দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা ছাড়াও এসব পদে অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ছিলেন।

তবে এবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেলের মধ্যে একটি ভোট গ্রহণের আগের দিন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে সব প্রার্থীর নাম থেকে যায়। ভোট বর্জনকারী প্যানেলটি হল চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’।

নির্বাচনে সাধারণ (অর্ডিনারি) গ্রুপে ৪ হাজার এক জন এবং সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) গ্রুপে ২ হাজার ৭৬৪ জন ভোটার ছিলেন।

শনিবারের ভোট গ্রহণকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছিলেন আগের দিন।

শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের এই ঘোষণা দেয় ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদেরও ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানান এই প্যানেলের নেতারা।

‘স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা’ প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতে ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগ রাখতে হবে।

২০১৩ সালে চট্টগ্রাম চেম্বারের সবশেষ ভোট হয়। এরপর থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসছিল।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চেম্বারের পুরো পরিচালনা পরিষদ পদত্যাগ করেছিল। এরপর তিন দফায় তিনজন প্রশাসক নিয়োগ হয়।

তারপর ঘোষিত তফসিল অনুসারে গত বছরের ১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক রিট, পাল্টা রিট ও সালিসি আদালতের সিদ্ধান্তে একাধিকবার নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত