স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ প্রশ্নে এড়িয়ে গেলেন মন্ত্রী
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ২২:৪২

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দৌড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থাকতে পারবেন কি না, জাতীয় সংসদে সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার প্রশ্নটি তুলেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, “জেলা পরিষদগুলোতে ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা রাজনৈতিকভাবে মনোনীত।
“গণতন্ত্রের জন্য ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার চার মাসের মতো ক্ষমতায় এসেছে, এরপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছু জানতে পারিনি।”
তিনি বলেন, ‘‘সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা।
কিন্তু আমরা দেখছি, এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দায়িত্ব পাওয়া প্রশাসকদের মাধ্যমে জেলাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এটি সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।”
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর উদ্দেশে রুমিন বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে।”
“কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে; কেউ বলছেন পারবে না। আবার কেউ বলছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলে যাদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা আছে, তারা অংশ নিতে পারবেন। বিষয়গুলো যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্পষ্ট করতেন, তাহলে সবার বুঝতে সুবিধা হতো।”
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।”
তাতে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহের বিষয়টি না তুলে তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করতে পারব।”
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। সেই থেকে দলটি কার্যত রাজনীতির মাঠে নেই। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও দলটি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। কিন্তু এবার যে নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগের থাকা না থাকার প্রশ্ন রাজনীতির মাঠে আছে বেশ কিছুদিন ধরেই।
সরকারের কোনো কোনো ব্যক্তি মনে করেন, স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের কোনো বাধা নেই।
গেল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, "কোনো রকম কোনো সমস্যা নেই। মানে একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের.... কারণ এটা নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।”
সূত্র: বিডি নিউজ
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










