ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

চীনা রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডর নির্মাণে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮:০১

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডর নির্মাণে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বৃহত্তর আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার স্বার্থে ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিএমইসি)’নির্মাণে তার দেশের সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি একটি সংযোগ প্রকল্প। এর একমাত্র উদ্দেশ্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

এই প্রকল্পে ভারত বা অন্য কোনো দেশের যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, অন্য দেশগুলো চাইলে এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারে।

গত ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চীনা দূতাবাস।

এবারের সফরে বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে। এ ছাড়া গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) যুক্ত হওয়া, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণসহ দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং চুক্তি সই হয়েছে।

এই সফরে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ (২+২) সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিসিএমইসি প্রকল্প সম্পর্কে ইয়াও ওয়েন বলেন, এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজ করতে সাহায্য করতে পারে।

উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় আগে ‘বালাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএম)’গড়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল চীন। তবে ভারত আগ্রহ না দেখানোর কারণে সেটি আর এগোয়নি।

মিয়ানমারের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এ বিষয়ে চীনকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা,অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্য করে এটি হচ্ছে না। তিনি বলেন, এটি শুধুই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার একটি সহযোগিতা, এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের চীন সফরকে ‘সম্পূর্ণভাবে সফল’উল্লেখ করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এই সফর ঢাকা ও বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে একটি শক্তিশালী গতি যোগ করেছে।

রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, সফরটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। এটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক, যা সম্পর্ককে এক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন স্তরের আস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্কে ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা অত্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সেই সম্পর্কেরই একটি অংশ। তবে নির্দিষ্ট কোনো সমরাস্ত্র কেনাকাটার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দূতাবাসের পরিচালক ঝাং জিং এবং কাউন্সেলর সং ইয়াং উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত