বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ৩৯ নাগরিক
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ২০:৪১

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য জেলা প্রশাসনের ভেঙে ফেলার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৩৯ নাগরিক।
বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “হঠাৎ করে একটি খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে কারো সঙ্গে ‘কোনো আলোচনা না করে’ ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, যা জনমনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
“২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর করেছিল। সেটি সংস্কার না করে ভাস্কর্যটি নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দায়িত্ব জ্ঞানহীন ও চরম আপত্তিকর।”
২০১২ সালে ঝিনাইদহের মাগুরা সড়কের চার রাস্তা মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে এ চত্বর নির্মাণের কিছু কাজ করার পর সেটি অসমাপ্ত থাকে। ভাস্কর্যটি আর উদ্বোধন হয়নি। সেভাবেই পড়ে ছিল।
এর মধ্যে গত ১৭ জুলাই দুপুরে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক চত্বরের বেদীর অংশ ভাঙছেন। সেই ভাঙা টুকরো একটি পিকআপ ভ্যানে রাখা হচ্ছে। তবে বেদীর উপরের অংশটি এখনো অক্ষত রয়েছে।
এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সমালোচনার মধ্যে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, একটা ‘সুবিধাজনক জায়গায়’ ভাস্কর্যটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে।
৩৯ নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই ‘মনগড়া’ যুক্তিতে ঝিনাইদহের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এ ধরনের কাজ স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অসম্মান করার শামিল।”
ভাস্কর্যটি ওই জায়গাতেই পুনরায় স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, লেখক রেহেনুমা আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী মো. নুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, সামিনা লুৎফা, জোবাইদা নাসরীন, রোবায়েত ফেরদৌস, গীতি আরা নাসরিন।
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










