ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৬ অাপডেট : ৪৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৭

প্রিন্ট

শফীর বক্তব্য রাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: নওফেল

শফীর বক্তব্য রাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: নওফেল
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

মেয়েদের লেখাপড়া না করানোর বিষয়ে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর বক্তব্য তার ‘ব্যক্তিগত’ মন্তব্য করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, এটা রাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চশমা হিলের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ১১৮ তম বার্ষিক মাহফিলে মাদ্রাসার পরিচালক শফীর দেওয়া একটি বক্তব্য ও ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয়, মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না দিতে এবং দিলেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য ওয়াদা নিয়েছেন আহমদ শফী। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়।

হেফাজতের আমীরের নাম উল্লেখ না করে উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, যিনি এই মন্তব্যটা করেছেন, তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছেন। বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা অথবা শিক্ষা খাতে কোনো নির্বাহী দায়িত্বে তিনি নেই। যেহেতু তিনি কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবস্থানে নেই, তিনি অভিমত দিলেই সেটা রাষ্ট্রীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত বা প্রতিফলিত হবে, এমন চিন্তা করবার অবকাশ নেই। সমাজে এরকম অনেকেই অনেক ধরনের অভিমত দেন।

নওফেল বলেন, দেশের যে কোনো নাগরিকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। তার মনের ভাবনা প্রকাশ করার অধিকার আছে। তবে আমি সম্মানের সাথে বলব, আমরা সকলেই যারা বাকস্বাধীনতার চর্চা করছি, আমরা যেন এই বিষয়টা মাথায় রাখি যে- সংবিধান অনুসারে আমাদের সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা যেন বৈষম্যমূলক মন্তব্য না করি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হবে-তার চাইতে বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে শিক্ষক সংখ্যা বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছি। প্রয়োজনে অধিক শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে দুই শিফটে পাঠদানের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

নামি-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অভিভাবকদের নির্ভরশীলতা কমাতে প্রান্তিক এলাকার শিক্ষাঙ্গনে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধিতে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পাঠ্যপুস্তকে প্রগতিশীলদের লেখা বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন লেখা সংযুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে নওফেল বলেন, এ প্রক্রিয়ায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের অপতৎপরতা রোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

মতবিনিময় সভায় নওফেলের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, স্বাচিপ নেতা ডা.শেখ শফিউল আজমসহ নেতাকর্মীরা ছিলেন।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close