ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

সরকারি চাকরিজীবীদের আত্মীকরণে নতুন বিধিমালা

  বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৫৯  
আপডেট :
 ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:০৫

সরকারি চাকরিজীবীদের আত্মীকরণে নতুন বিধিমালা

সরকারি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারিদের আত্মীকরণের নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর আলোকে এইটি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। খসড়া বিধিমালা অনুসারে সরকারি মহিলা কর্মচারিদের উদ্বৃত্তকরণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। চাকরিতে প্রবেশ করা সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিরা আগে উদ্বৃত্ত হবেন। উদ্বৃত্ত কর্মচারিদের সরকারি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আত্মীকরণ করা হবে। যে কর্মচারি যে পদ থেকে উদ্বৃত্ত করা হয়েছেন যতদুর সম্ভব তাকে ওই পদে একই স্কেলে আত্মীকরণ করা হবে।

যদি কোনো কর্মচারিকে সমবেতনে সমস্কেলে আত্মীকরণ করা সম্ভব না হয় তা হলে তাকে একধাপ নিচের পদে আত্মীকরণ করা হবে। তবে তিনি একধাপ নিচের পদে যোগদান করতে না চাইলে ত্রিশ কার্যদিবসপর অবসরে গেছেন মর্মে গণ্য হবে। উদ্বৃত্ত কর্মচারি অন্য কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আত্মীকরণের আগেই মারা গেলে তিনি অর্থাৎ তার পরিবারের সদস্যরা পেনশন এবং পারিবারিক পেনশন পাবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, নীতিমালাটি শিগগিরই প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উন্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

খসড়া নীতিমালা অনুসারে, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, জনবল যৌক্তিককরণ বা কমানো, অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকলে অথবা অন্য কোন যৌক্তিক আইন সঙ্গগত কারণে কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জনবল কমালে ওই জনবল অন্য কোন সরকারি বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আত্মীকরণের দায়িত্ব সরকারের। যে প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত জনবল রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত জনবল উদ্বৃত্ত ঘোষণা করবে। ওই উদ্বৃত্ত কর্মচারিদের উদ্বৃত্ত করার সময় যে পদ এবং স্কেল থেকে উদ্বৃত্ত করা হয়েছে ওই পদপদবী এবং বেতন ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আত্মীকরণ করতে হবে।

তবে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের কোন সদস্য, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অস্থায়ী মেয়াদে গঠিত কমিশন, কমিটি, বা বোর্ডে নিয়োজিত ব্যক্তি, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য চুত্তিভিত্তিক নিয়োজিত ব্যক্তিরা সরকারি কর্মচারি হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু বেসামরিক পদ এমন কি ক্যাডার পদও এই উদ্বৃত্ত ও আত্মীকরণের আওতাভূক্ত থাকবেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলতে কোন আইনে আইনের অধীনে গঠিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার জনবল উদ্বৃত এবং আত্মীকরণের আওতায় আসবে।

যে কর্মকর্তা কর্মচারি যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেই মন্ত্রণালয় তাদের উদ্বৃত্ত করবে। এরপর উপযুক্ত প্রমানসহ ওই মন্ত্রণালয়ের সচিবের স্বাক্ষরে তা আত্মীকরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। মহিলা কর্মচারীদর যতদুর সম্ভব উদ্বৃত্ত করা যাবে না। চাকরিতে প্রবেশকারি সর্বকনিষ্ঠ কর্মচারির যোগ্যতা, দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা তাকেই প্রথম উদ্বৃত্ত করতে হবে। উদ্বৃত্তকালিন সময়ে ওই কর্মকর্তা কর্মচারিরা সুপারনিউমারারি পদের বিপরীতে বেতন ভাতাদি পাবেন। এই সংক্রান্ত যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সরকারি কর্মচারি উদ্বৃত্ত ঘোষণাকারি মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে সম্পন্ন করবে। উদ্বৃত্ত কর্মচারি সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানে আত্মীকরণের আগে মারা গেলে যে হিসেবে রক্ষণ অফিস থেকে তিনি সর্বশেষ বেতনভাতা নিয়েছেন সেই হিসেবে রক্ষণ অফিস, প্রশাসনিক দপ্তর, অধিদপ্তর মন্ত্রণালয় নিজ নিজ চাকরিবিধি অনুযায়ি তাদের পেনশন পারিবারিক পেনশন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলে ওই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কাঠামো অনুসারে আর্থিক সুবিধা পাবেন।

এই সংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান, আদেশ, পরিপত্র, নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। উদ্বৃত্ত করণের তারিখ থেকে আত্মীকরণের পূর্ব পর্যন্ত তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন লাগবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মনোনীত না হলে কোন উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারিকে আত্মীকরণ করা যাবে না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অন্য কোন মন্ত্রণারয়, বিভাগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন কোন কার্যালয়ে উদ্বৃত্ত কর্মচারিকে আত্মীকরণের ক্ষমতা অর্পন করতে পারবে। কোন উদ্বৃত্ত কর্মচারিকে আত্মীকরণের সময় নতুন করে পরীক্ষা বা যাচাই বাচাইয়ে অংশ গ্রহণ করতে হবে না। কোন নির্দিষ্ট যোগ্যতা, চাকরির মেয়াদ এবং কোন নির্দিষ্ট বয়সসীমাও প্রয়োজন হবে না। কোন উদ্বৃত্ত কর্মচারিকে কোন পদে এককবার আত্মীকরণ করা হলে তা চুড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তিনি পুন:আত্মীকরণের জন্য অধিকারি হবে না।

সরকার সময়ে সমেয়ে আদেশ জারি করে আত্মীকৃত সরকারি কর্মচারিদের জ্যেষ্ঠতা অর্থাৎ সিনিয়রিটি, বেতন, ও পেনশন নির্ধারণ করবে। পূর্বের চাকরিকালের সম্পূর্ণ অংশ আত্তীকৃত পদের জ্যেষ্ঠতা, বেতন, ছুটি, পেনশন এবং আনুতোষিকের জন্য গণনা করা হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আত্মীকরণের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি কালের ৫০ ভাগ আত্মীকৃত সরকারি পদের জ্যেষ্ঠতার জন্য গণনা করা হবে। পক্ষান্তরে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে অপর একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আত্মীকরণের ক্ষেত্রে পূর্ব পদের সম্পূর্ণ চাকরিকাল আত্মীকৃত পদের জ্যেষ্ঠতা, বেতন, ছুটি, পেনশন এবং আনুতোষিকের জন্য গণনা করা হবে। ২৫ বছর চাকরি করার পর কোন কর্মচারি উদ্বৃত্ত হলে এবং তিনি পূর্ণ অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে তিনি পুনরায় সরকারি কোন কার্যালয়ে আত্তীকরণের জন্য বিবেচিত হবে না। সাংবিধানিক সংস্থার উদ্বৃত্ত কর্মচারি পেনশনযোগ্য চাকরিতে আত্তীকৃত হলে তার পূর্বের চাকরির ৫০ ভাগ পেনশনের জন্য গণনা করা হবে। ভবিষ্যত তহবিলে নিয়োগকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেওয়া অংশ সুধসহ সমর্পন করতে হবে। প্রয়োজনীয় পেনশন কন্ট্রিবিউশন সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।

সরকার আদেশ দিয়ে নির্দিষ্টকৃত মেয়াদের জন্য সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া জনবল নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারি আত্তীকরণরে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই বিধিমালার অধীনে কোন সরকারি কর্মচারিকে আত্মীকরণের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকমিশনের সঙ্গে কোন ধরণের পরামর্শের প্রয়োজন হবে না। এই বিধিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন ধরণের অসুধিা দেখা দিলে অনুবিধাসমূহ দূরিকরণের জন্য সরকার এই বিধিমালার সঙ্গে যতদূর সম্ভব সঙ্গতি রেখে আদেশ জারি করবে। আপপতত বলবৎ অন্য কোন আইন, বিধি, প্রবিধান, উপ আইন, আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন কোন দলিল, চুক্তি, অঙ্গিকারনামা, সমঝোতাপত্র, চাকরির শর্তাদিতে ভিন্ন যা কিছুই থাকুকনা কেন উদ্বৃত্ত ও আতীকরণের ক্ষেত্রে এই বিধিমালার বিধানাবলি প্রধান্য পাবে।

দায়মুক্তি : দেশের কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কোন কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিধিমালার দ্বারাকৃত কোন কাজ বা জারিকৃত কোন আদেশের বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন উন্থাপন করা যাবে না। সরকার বা কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই বিধিমালা বা তদধীন প্রণীত বিধানের অধীন কোন কিছুর করা বা করার অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাবে না।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত