ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৩

প্রিন্ট

যে কারণে বাড়ছে ডিমের দাম

যে কারণে বাড়ছে ডিমের দাম
জার্নাল ডেস্ক

প্রতিবছর অক্টোবর মাসে দ্বিতীয় শুক্রবারে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিত হয় বিশ্ব ডিম দিবস। সর্বশেষ বিশ্ব ডিম দিবসের শ্লোগান ছিলো ‘সুস্থ সবল জাতি চাই, সব বয়সে ডিম খাই’। তবে বাজারে ডিমের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে ডিম খেয়ে কতটা সুস্থ সবল থাকা যাবে তা নিয়ে নিশ্চিত নন অনেকেই।

ঢাকার শাহজাদপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা মুরাদ সালাউদ্দিন। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার বাসার কাছের দোকান থেকে এক সপ্তাহ আগেও তিনি একশ টাকা ডজনে ডিম কিনেছেন। আজ রোববার একই দোকানি ডিমের দাম চেয়েছে ১২৫ টাকা, প্রতি ডজনের জন্য।

অথচ গত বছর বিশ্ব ডিম দিবসে মানুষকে ডিম খেতে উদ্বুদ্ধ করতে ঢাকার খামারবাড়িতে তিন টাকা পিস ধরে ডিম বিক্রির আয়োজন করেছিলো বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল ও সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

তাদের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশে ১ হাজার ৫৫০ কোটি পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫৫১ কোটি ৬৬ লাখ পিস।

বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি খামারগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি ডিম উৎপাদন হয়। অথচ সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ডিমের দাম বাড়তে বাড়তে এখন প্রতি পিস ৮-১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকার নিকেতন এলাকায় বাস করেন দিলশাদ হোসেন, যার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডিম অপরিহার্য। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, গতকাল শনিবার এক ডজন ডিম কিনেছেন দোকান থেকে ১২০ টাকা দিয়ে, অথচ তার পাঁচ দিন আগেই একই দোকানে এক ডজন ডিমের দাম নিয়েছিলো ১০৫ টাকা।

তিনি আরো বলেন, আসলে ডিমের দাম মনিটরিংয়ের কোন সিস্টেম আছে বলে মনে হয় না। যে যার মতো করে দাম রাখে। আমাদেরও তেমন কোন উপায় থাকে না।

তিনি বলেন, অথচ পুষ্টির বিবেচনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ডজনে ১৫ টাকা এক সপ্তাহে বাড়লে এটা সত্যিই সমস্যা।

ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ গাজীপুরের খামার মালিক ও পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, দুটি কারণে এবার ডিম উৎপাদন ৪০ ভাগ কমেছে। বেশ কিছু জেলায় এবার অস্বাভাবিক গরমের কারণে অনেক লেয়ার মুরগি মারা গেছে। এছাড়া এভিয়েন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে অনেক খামারের মুরগি।

এর বাইরে মুরগির খাবারের কিছু উপকরণ আমদানিতে কিছু পরিবর্তন আসার কারণেও খামারগুলোকে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে জানান তিনি।

মহসিন অবশ্য বলছেন, আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমবে বলে আশা করছেন তারা।

খামার পর্যায়ে দাম কেমন? পুরনো রমনা থানার কাছে ছোটো দোকানী লিটন। তিনি জানান, তিনি এখন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা নিচ্ছে প্রতি ডজনের বিপরীতে। পাইকারদের কাছ থেকেই বেশি দাম দিয়ে নিতে হয়। বাজারে নাকি সাপ্লাই কম, এজন্য বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হয় বলেই দাম বেড়ে গেছে।

কিন্তু খামারিরা কত দরে বিক্রি করছেন ডিম? - জবাবে খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন বলছেন, রোববার নাগাদ খামার পর্যায়ে লাল ডিম আট টাকা ত্রিশ পয়সা আর সাদা ডিম আট টাকা পাঁচ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে অঞ্চলভেদে ডিমের দামের ক্ষেত্রে কিছুটা তারতম্যের তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বিপিকেআরজেপি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল'স বাংলাদেশ (পিপিবি।

তাদের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী ঢাকায় সাদা ডিম শনিবারে পাইকারি বাজারে আট টাকা ষাট পয়সা আর চট্টগ্রামে পাওয়া গেছে এর চেয়ে দশ পয়সা কম দামে। আবার যশোরে ছিলো আট টাকা আশি পয়সা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত