ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৩২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৫৫

প্রিন্ট

বালুতে ঢেকে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

বালুতে ঢেকে গেছে কৃষকের স্বপ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বানের পানি নেমে গেছে তা প্রায় ১৫/২০ দিন হয়েছে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িঘরে ফিরেছে মানুষ। ভেঙে যাওয়া বসত-বাড়িও মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু বানের পানির সাথে বিপুল পরিমাণে বালু এসে আবাদি জমিতে জমাট বেঁধেছে।

সেই বালুগুলো এখনো নামেনি। ফলে কৃষকের মাথায় হাত। লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলা নদী তীরবর্তী বন্যা কবলিত এলাকাগুলো ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এবার বন্যাটি স্থায়ী হওয়ার কারণে আবাদি জমিতে পানি বেশি দিন জমে ছিলো। তাই জমির জমাট বাধা বালুরস্তর সরে যায়নি। এতে জমিতে ধানের চারা গুলো বালুতে ঢেকে গেছে। তিস্তা ও ধরলার বুকে বালুমিশ্রিত পলি জমতে জমতে নদীর বুক প্রায় সমতল হয়ে গেছে। ফলে নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে তা উপচে গিয়ে তীরবর্তী এলাকার লোকালয়ে জমিতে পানি চলে যায়। পানির সাথে বিপুল পরিমাণ বালুও চলে আসে। অনেক কৃষকই এ সমস্যায় নিমজ্জিত হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। তবে সরকারিভাবে আবাদি জমিতে জমাট বাঁধা বালুরস্তর সরিয়ে দিলে কৃষকরা অনেক উপকৃত হবেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের মনছুর আলী জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। এতে তার খরচও হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার টাকা। কিন্তু বন্যায় তিস্তা নদীর বালুতে তার ৩ বিঘা জমির ধান চারা গুলো ঢেকে গেছে।

তিনি জানান, বন্যার পানির সাথে বিপুল পরিমাণে বালু এসে আবাদি জমিতে জমাট বেঁধেছে। পানি নেমে গেছে কিন্তু, নামেনি বালুগুলো। বালুতে ঢেকে যাওয়া আবাদি জমিগুলোতে আর ফসল হবে না। তবে বালু সরাতে পারলে জমিগুলো আবাদযোগ্য হবে। এ কাজ আদৌ সম্ভব না। তারপরও চেষ্টা করা হচ্ছে কোদাল দিয়ে বালুগুলো সরাতে।

হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তাপাড়ের সির্ন্দুনা গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালে তার ৫ বিঘা জমিতে বালুরস্তর জমে ছিলো। আজও সেগুলো আবাদযোগ্য হয়নি। এ বছরও বন্যার পানিতে বয়ে আসা বালুতে ঢেকে গেছে আরো দুই বিঘা আবাদি জমি। আবাদি জমির উপর বন্যার পানি স্থায়ী হলেই এ সমস্যাটা হয়।

একইভাবে তাদের স্বপ্ন ভাঙ্গার গল্প গুলো বলেন ওই এলাকার কৃষক জাকির হোসেন, মমতাজ উদ্দিনসহ অনেকেই।

হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী সির্ন্দুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, বন্যার সময় আবাদি জমির উপর বালুরস্তর জমা আর পরবর্তীতে জমিগুলো অনাবাদী হওয়া একটি বড় সমস্যা। আমার ইউনিয়নে গত কয়েক বছরে ৪/৫ শতাধিক কৃষকের শত শত বিঘা জমি অনাবাদী হয়েছে আর এগুলো এখনো অনাবাদী রয়ে গেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বজলে করিম বলেন, নিয়মিত তিস্তা ও ধরলা নদী খনন ছাড়া এ সমস্যা থেকেই যাবে। বিশেষ করে তিস্তা নদী খনন ও তীর সংরক্ষণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এবং চলতি অর্থ বছরে তা বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।

লালমনিরহাট কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধুভূষণ রায় জানান, বন্যার পানির সাথে নদীর বালু এসে কী পরিমাণ আবাদি জমিকে অনাবাদি করেছে এর সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে এ বছরের বন্যা স্থায়ী হওয়ায় নদীর তীরবর্তী বিপুল পরিমাণে আবাদি জমি বালুতে ঢেকে গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত