ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ২৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৪:৫৫

প্রিন্ট

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আলোর স্বল্পতা: উদ্বিগ্ন পুলিশ

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আলোর স্বল্পতা: উদ্বিগ্ন পুলিশ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না হওয়ায় সন্ধ্যার পরই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা। আলোর স্বল্পতার কারণে রাতে সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা পড়েন নানা সমস্যায়।

সমুদ্র সৈকতের সন্ধ্যা আলো-আঁধারিতে কাটলেও দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঠেলাঠেলি চলছে এখনো। এই অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে পুলিশ।

কিন্তু সৈকতে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে থাকা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তবেই স্থায়ী আলোকায়নের ব্যবস্থা করবে তারা।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আলোর স্বল্পতার বিষয়টি জানিয়ে সোমবার সিডিএকে একটি চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ।

সেখানে বলা হয়, সৈকতের মূল পয়েন্টে এক সারি সৌরবিদ্যুৎ চালিত বাতির মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কেননা পানি থেকে স্থলভাগের দিকে সৈকত এলাকা অনেকখানি প্রশস্ত। ফলে একসারি সৌরবিদ্যুৎ চালিত বাতি দিয়ে সৈকত আলোকিত হয় না।

পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত সৈকতের ধারে ‘চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। ওই প্রকল্পের আওতায় সৈকতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে।

কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্পের উদ্বোধন জন্য প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে গেলে পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

ওই সংযোগের বিপরীতে দুই লাখ ১৭ হাজার ৩৫৯ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়লে পিডিবির পক্ষ থেকে সিডিএকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ সংযোগের আওতায় সৈকতে থাকা প্রায় ৫০টি বিদ্যুতের খুঁটিতে কোনো বাতি আর জ্বলছে না। সৈকতের মূল পয়েন্টে থাকা সৌরবিদ্যুৎ চালিত বাতিগুলোই সামান্য আলো দিচ্ছে।

পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন,

সৈকত এলাকার ওয়াকওয়ে নতুনভাবে সাজানোর পর পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাত ১২-১টা পর্যন্ত পর্যটকরা থাকেন।

কিন্তু আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না হওয়ায় সৈকত এলাকা রাতে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বলে আমরা সৈকতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছি। কিন্তু নিরাপত্তায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশের নানা রুটিন কাজের মধ্যে অতিরিক্ত ফোর্স দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। পুলিশের সংখ্যা কম হলে নানা সমস্যা হতে পারে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার সিডিএকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়- রাতে সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা আলোর স্বল্পতার কারণে নানা সমস্যায় পড়েন। এরই মধ্যে সৈকতে আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়েছেন। অন্ধকারে অসুবিধা, পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং বিভিন্ন অপরাধের শিকার হওয়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ (হালিশহর) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা স্পর্শকাতর বিষয়। বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি মুখ্য নয়।

বিল বাকি পরার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলে সিডিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়- তারা এখন বিল দিতে পারবেন না। ওই প্রকল্পে এর জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তারাই বলেছেন আপাতত ওই পোলগুলোতে সরবরাহ বন্ধ রাখতে।

তিনি বলেন, দুটোই সরকারি প্রতিষ্ঠান। পর্যটকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিডিএ আলোচনা করলে হয়তো কোনো সমাধান করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে সিডিএর চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, বিল বকেয়া থাকায় পিডিবি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। সৈকতের পুরো বিউটিফিকেশনের কাজ যখন শেষ হবে তখন স্থায়ী আলোকায়নের ব্যবস্থাও করা হবে। আলো কম থাকায় দর্শনার্থীদের কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে। তবে মূল সৈকতে সোলার লাইট আছে।

২০২০ সালের জুনে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। সে সময় সৈকত ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত