ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ১১:৫৭

প্রিন্ট

সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম আর নেই

সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম আর নেই
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

নোয়াখালী-১২ (হাতিয়া-রামগতি) আসনের সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আর নেই।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স গ্রামের বাসিন্দা।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, আত্নীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য; বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুন্নাহার লাইলী, আশরাফ উদ্দিন নিজান, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র এমএ তাহের, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতলব, কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু, রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ, কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পি, ভাইস চেয়ারম্যান ওমর ফারুক সাগর, হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান।

সিরাজুল ইসলাম ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লীগের প্রার্থী হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে হাতিয়া-রামগতি আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকলে এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি একই এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় গণ পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।

সিরাজুল ইসলাম নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বৃহত্তর রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। পরে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তার চর লরেন্স গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ছিলেন স্থানীয় অন্যতম সৈনিক। তিনি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন; নিজেও স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমে পড়েন।

সাবেক এমপিএ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সিরাজুল ইসলাম সাহেবের জন্ম ১৯৩৫ সালে কমলনগর (সাবেক রামগতি) উপজেলার চর লরেন্স গ্রামে। তার বাবা আমিন উদ্দিন পাটোয়ারি; মাতার নাম সরাফাতুন্নেছা। তিনি ১৯৫১ সালে রামগতি বিবিকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্টিকুলেশন, ১৯৫৪ সালে কুমিলা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে থাকাকালে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ওই কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণও করেন। কারাগারে থেকেই আইএ পরীক্ষা দেন।

তিনি ১৯৫৪ সাল থেকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় নোয়াখালী সংবাদদাতা হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বলি দেখার জন্য পাকিস্তানের করাচি যান। সেখানে তার সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রথম পরিচয় হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত