ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৫

প্রিন্ট

গফরগাঁওয়ে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১

গফরগাঁওয়ে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় বুধবার রাতে দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে হুমায়ুন (২৮) নামে এ যুবক নিহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষে হুমায়ুনের ভাই জজ (২৬) ও তার মা রাহেনা খাতুন (৭০) আহত হয়েছেন।

নিহত হুমায়ূন উপজেলার রাওনা গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে। দুই বছর আগে প্রতিপক্ষরা হুমায়ুনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। নিহত হুমায়ুনের ভাই জজকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের রাওনা গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার মতিন মিয়ার বাড়ির লোকজনের সাথে একই ইউনিয়নের ধোপাঘাট গ্রামের নামাপাড়া এলাকার শহর মেম্বারের বাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ধোপাঘাট নামাপাড়া গ্রামের লোকজন রাওনা গ্রামের কাঞ্চন মিয়াকে মারধর করে।

রাত ৮ টার দিকে ধোপাঘাট গ্রামের শরীফুল (৩৫), নয়ন (৩২), ছাইদুল (৪৩), সিরাজ (৪৫), সুমন (৩৬), কফিলউদ্দিন (৮৭), ছাত্তার (৪৫) এর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক ৩/৪টি মোটর সাইকেল করে রাওনা গ্রামের মতিন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে এবং হুমায়ুনের বৃদ্ধ মা রাহেনা খাতুন (৭০)কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বাড়ির নারী ও শিশুদের রামদা, কিরিচ দেখিয়ে ধাওয়া করে। তখন এ বাড়ির নারী ও শিশুরা প্রতিবেশী বাদল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। শরীফুল, নয়ন, ছাইদুল বাহিনী মতিন মিয়ার বাড়িতেও হামলা করে। হামলা শেষে তারা ধোপাঘাট বাজারে গিয়ে রাওনা গ্রামের ইসমাইলের চায়ের দোকানে ভাংচুর চালায়।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে হুমায়ুন ও জজের নেতৃত্বে রাওনা গ্রামের বেশ কয়েকজন লোক সংগঠিত হয়ে ধোপাঘাট বাজারে যায়। ধোপাঘাট বাজারে শরীফুল, নয়ন, ছাইদুল, সিরাজের নেতৃত্বে ধোপাঘাট গ্রামের ৩০/৪০ জন লোক রামদা. বল্লম. কিরিচ, চাপাতি নিয়ে রাওনা গ্রামের লোকজনের উপর হামলা করে। এ সময় ধোপাঘাট গ্রামের সশস্ত্র লোকজন রাওনা গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে হুমায়ুন ও জজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই হুমায়ুনের মৃত্যু হয়। পরে পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক হুমায়ুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গফরগাঁও থানার ওসি অনুকূল সরকার জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান,এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত