ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩২

প্রিন্ট

থানায় মারধরের পর সিগারেটের ছ্যাকা, ওসির বিরুদ্ধে মামলা

থানায় মারধরের পর সিগারেটের ছ্যাকা
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল ও কনস্টেবল জাহিদের বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাশিদা বেগম (৫২) বাদী হয়ে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিচারক সানা মো. মাহরুফ হোসাইন মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

জানা যায়, মামলার বাদী মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজির আলী গ্রামের মৃত হেলাল মাতুব্বরের স্ত্রী রাশিদা বেগম উজিরপুর উপজেলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, মামলার প্রধান অভিযুক্ত ওসি শিশির পালের হুকুমে রাশিদার ভাড়াটিয়া বাসার মালামাল আটক করে রাখা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর লোক মারফত মালামাল ফেরত দেয়ার কথা বলে খবর দিলে ওইদিন সন্ধ্যায় থানার সামনে চায়ের দোকানে গেলে ২নং আসামি কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম (৯৬৮) রাশিদাকে প্রথম দফায় মারধর করে পরে তিনি ওসির কাছে বিচারের জন্য গেলে ওসিও তাকে মারধর করে।

বাদী প্রতিবাদ করলে জাহিদুল তাকে দোকানের সাথে চেপে ধরে। পুনরায় প্রতিবাদ করলে জাহিদ তার দুই গালে ও ঠোঁটে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাকা দেয়। বাদী ওসির কাছে নালিশ করতে গেলে ওসি শিশির কুমার পাল তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলে তোর বাবা ডিআইজি’র কাছে যা।

ওসিকে বিচারের জন্য বললে তিনি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে বাদীর চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিচড়ে গোল ঘরের পাশে নিয়ে যায়। বাদীর মুখের মধ্যে ওসি তার আঙ্গুল ঢুকিয়ে মুখ চেপে ধরে। তাকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ওসি তাকে উঁচিয়ে আছাড় মারেন।

এরপর বাদীর ছেলে বাবু এসে ওসি’র বর্ণিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে ছেলেকে থাপ্পড় দেয় ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখে এবং আসামি দ্বয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করতে শাসিয়ে দেয়। মামলা করলে ভয়াবহ অবস্থা হবে বলেও হুমকি দেয়।

এ সময় কনস্টেবল জাহিদ বাদীর গলা থেকে ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। বাদী অসুস্থ হয়ে পড়লে উজিরপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওসির হস্তক্ষেপে তাকে ভর্তি করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানেও একই কারণে ভর্তি করা হয়নি বলে বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে ওসি শিশির কুমার পাল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এ বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত