ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৩৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৩

প্রিন্ট

অভিযোগ নিয়ে থানায় হনুমান, বিপাকে পুলিশ

অভিযোগ নিয়ে থানায় হনুমান, বিপাকে পুলিশ
যশোর প্রতিনিধি

অন্যান্য দিনের মত যশোরের কেশবপুর থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। হঠাৎ তাদের নজরে পড়ে একটি আহত বাচ্চা নিয়ে মা হনুমান থানা চত্বরে ঢুকেছে। কেশবপুরের সরকারি অফিস আদালতে হনুমানের এমন আসা-যাওয়া অনেকটা নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু রোববারের ঘটনা ছিল ভিন্ন।

কারণ মা হনুমানটি আসার কিছু সময়ের মধ্যেই ২০ থেকে ২৫টি হনুমান দলবেঁধে থানার মূল ফটক দিয়ে ঢুকে পড়ে। এদের কেউ প্রধান ফটকের সামনে আবার বেশ কয়েকটি হনুমান ঢুকে পড়ে থানার ডিউটি অফিসারের রুমে। হনুমানদের এমন আচারণে বিপাকে পড়ে যান পুলিশ সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে এদের খাবার দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, তাদের ধারণা বাচ্চাকে মারধরের বিচার চাইতে বা বিষয়টি নজরে আনতেই এমন দলবেঁধে হনুমান ছুটে এসেছে। পরে থানা থেকে কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এক পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নেয় হনুমানের দল।

থানার ওসি মো. শাহিন বলেন, ‘একটি মা হনুমান কোলে বাচ্চা নিয়ে প্রথমে থানায় আসে। বাচ্চাটিকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে। পরে বাচ্চাটি মারা যায়। পরে কিছু শুকনো খাবার দিলে ঘণ্টাখানিক অবস্থানের পর হনুমানের দল চলে যায়। হনুমানের ওপর হামলাকারীদের বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।’

হনুমানদের এমন অভাব-অভিযোগের কথা আগেও শুনতে হয়েছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এদের সঙ্গে কেউ অন্যায় আচারণ করলে বা মারধর করলে সোজা থানায় চলে আসে। এর আগেও এমনটা হয়েছে।

এদিকে কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মোনায়েম হোসেন জানান, শহর ও শহরতলিতে পাঁচ শতাধিক হনুমান রয়েছে। তাদের জন্য প্রতিদিন মাত্র ৩৫ কেজি কলা, দুই কেজি বাদাম ও দুই কেজি পাউরুটি দেয়া হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। খাবার না পেয়ে হনুমান মানুষের বসতবাড়ি ও অফিসে ঢুকে পড়ে।

তিনি বলেন, ‘হনুমান অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রাণি। তাদের ওপর কেউ হামলা করলে তারা দলবদ্ধভাবে এভাবে থানায় আসে। আগেও এরকম ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে বলে জানান তিনি।’

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত