ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪০

প্রিন্ট

গবাদি পশুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ, আতঙ্কে খামারিরা

গবাদি পশুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ, আতঙ্কে খামারিরা
ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু
নওগাঁ প্রতিনিধি

সম্প্রতি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় হঠাৎ করেই গবাদি পশুর ভাইরাস জনিত চর্মরোগ ল্যাম্পি স্কিনের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে চরম আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

তারা বলছেন এ রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায় প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা আরো বাড়ছে। তবে শঙ্কিত না হয়ে খামারিদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

সূত্রে জানা গেছে, ল্যাম্পি স্কিন রোগটি প্রথম ১৯২৯ সালে জাম্বিয়াতে দেখা দেয়। পরে আফ্রিকা মহাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এবং ২০১৪-২০১৫ সালে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, কাজাকিস্থানসহ আশেপাশের দেশগুলো এ রোগ দেখা দেয়।

২০১৬ সালে গ্রিস, সাইপ্রাস, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, কসোভোসহ আশেপাশের দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে চীন ও ভারতে ল্যাম্পি স্কিন প্রাদুর্ভাবের পরেই বাংলাদেশে এ রোগটি প্রথমবারের মতো দেখা দেয়।

এ রোগ মশা, মাছি, আটালি, আক্রান্ত পশুর লালা, নাক-চোখের ডিসচার্জ, ষাড়ের বীর্য, আক্রান্ত গরু-মহিষের দুধ এবং ব্যবহারিত ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মধ্যমে ছড়ায়। অনুকূল পরিবেশে এ ভাইরাস ছয় মাস পর্যন্ত জীবিত থাকে। ভাইরাস জনিত এ চর্মরোগে শুধুমাত্র গরু-মহিষ আক্রান্ত হয়।

ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু দুর্বল হয়ে ওজন কমে যায়, দুধ উৎপাদন হ্রাস পায় এবং চামড়ার গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়।

রাণীনগর উপজেলার এনায়েতপুর, কাশিমপুর, গোনাসহ আশেপাশের প্রায় ১০টি গ্রামে এ পর্যন্ত ১০-১২হাজার গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর (মূলত গরু) শরীরে ১০৪ থেকে ১০৬ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্বর দেখা দেয় এবং গরু খাওয়া ছেড়ে দেয়। অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ক্ষতস্থান থেকে মাংস খুলে পড়ে।

এই রোগের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন উপজেলার খামারি ও কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, এই রোগটি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়লেও সরকারি চিকিৎসকরা তেমন খোঁজ-খবর রাখছেন না। তাদেরকে ডাকলেও তারা সেভাবে সাড়া দিচ্ছেন না।

এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক লেবু বলেন, বর্তমানে তার ৩টি গরু এই রোগে আক্রান্ত। হঠাৎ একদিন প্রথমে গরুর চামড়ার উপরি অংশে টিউমার জাতীয় উপসর্গ ও বসন্তের মতো গুটি গুটি দেখতে পাই। এরপর দু-একদিনের মধ্যেই গরুর সারা শরীর জুড়েই গুটি গুটি হয়ে ঘায়ে পরিণত হয়েছে। তবে ছোট গরুর (বাছুর) অবস্থা খুবই খারাপ। গরুর গায়ের অসংখ্য গুটি গুটি ক্ষত দেখে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু কি করবো? সরকারি হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধই দেয় নাই। শুধু দীর্ঘ ব্যবস্থাপত্র দিয়েই ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এই রোগের চিকিৎসার ব্যয় অনেক। প্রতিদিন ৩টির গরুর জন্য প্রায় ৪ হাজার টাকার ওষুধ লাগছে। কিন্তু কি করবো, নিজেরা না খেয়ে গরুর চিকিৎসা করছি। কারন এই গরু ৩টিই আমার শেষ সম্বল।

শুধু লেবুই নয় উপজেলার ছোট ছোট খামারীরা রয়েছেন আরো দুশ্চিন্তায়। এটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় একটি গরু থেকে আরেকটি গরু আক্রান্ত হচ্ছে। তাই তারা চরম আতঙ্কে রয়েছে। খামারিরা তাদের সবকিছু দিয়ে গরু মোটা-তাজা করণ করছে। প্রতিটি গরুর আনুমানিক মূল্য লক্ষাধিক টাকা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দু-একটি গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাই উপজেলার সকল কৃষক ও খামারিরা এখন গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

তবে নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, এখন পর্যন্ত এ রোগে কোথাও গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। জনবল সংকট থাকা সত্বেও আমাদের লোকজন আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে সচেতন মূলক লিফলেট বিতরণ ও কৃষক-খামারীদের পরামর্শ প্রদান করছে। সাধ্যমতো ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর এই রোগের নির্দিষ্ট কোন ওষুধ ও ভ্যাকসিন আমাদের কাছে নেই। তবুও আমরা চেষ্টা করছি সম্পূরক ওষুধ দিয়ে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করতে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত