ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:১১

প্রিন্ট

রাতের আঁধারে উধাও অবৈধ ফিলিং স্টেশন

রাতের আঁধারে উধাও অবৈধ ফিলিং স্টেশন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়ে রাতেই আঁধারে উধাও হয়ে গেলো অননুমোদিতভাবে গড়ে ওঠা একটি গ্যাস ফিলিং স্টেশন। কয়েকমাস আগে জেলার কমলনগর উপজেলার হাজিরহাটে স্থাপিত ওই অবৈধ ফিলিং সেন্টারটি স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজে রেখে ব্যাবসা চালিয়েছিল বলে জানা যায়।

তবে বেআইনিভাবে ওই ফিলিং স্টেশনটি অপরিকল্পিত ও অরক্ষিত অবস্থায় জনবহুল আবাসিক এলাকায় স্থাপিত হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে ছিল। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মাঝে চরম আতংক সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি এড়াতে এলাকাবাসী ও হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা ফিলিং স্টেশনটি সরিয়ে নিতে এর প্রতিষ্ঠাতাদের চাপ দেন। এতে কর্ণপাত না করেও মাসের পর মাস ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে তোপের মুখে রোববার রাতের আঁধারেই সবকিছু নিয়ে উধাও হয়ে যায় অবৈধ গ্যাস ফিলিং স্টেশনটি। তবে জেলার রামগতি , রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলাতেও একই রকম অননুমোদিত গ্যাস ফিলিং স্টেশন রয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, কোনো অনুমোদন ছাড়াই কমলনগরে কয়েক মাস আগে বেনামি গ্যাস ফিলিং স্টেশনটি গড়ে ওঠে। ওই এলাকার হাজিরহাট-চর ফলকন শাখা সড়কের পাশে বাজার সংলগ্ন স্থানে এটি স্থাপিত হয়েছে। অনুমোদনপত্র ছাড়া সম্পূর্ণ অরক্ষিতভাবে স্থাপিত ওই ফিলিং সেন্টারে প্রশিক্ষিত কোনো জনবল ছাড়াই গ্যাস বিপণন চলছিল দেদারছে।

বসতিপূর্ণ সড়কের পাশে একটি কাভার্ড ভ্যানে অসংখ্য সিলিন্ডার গ্যাস মজুদ রেখে পার্কিং করে রাখা হতো। সেই ভ্যান থেকে প্যারালাল লাইনে পরিমাপ মিটার থেকে ক্রেতাদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপজ্জনক ঘটনা ঘটার আশংকা ছিল।

এ পরিস্থিতিতে চরম আতংক বিরাজ করছিল স্থানীয়দের মাঝে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ ওই ফিলিং সেন্টারটি উচ্ছেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসী ধর্ণা দিয়েও কাজ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর শহরের বাসিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ মোল্লাসহ ৫-৬ জনের শেয়ারভিত্তিক অবৈধ এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলে। কমলনগরের চরফলকন-হাজিরহাট এলাকায় কথিত ডা. নজরুল ইসলাম নামের একজনের সাথে শেয়ার বিনিময়ের চুক্তিতে তার মালিকানার একখন্ড জমিতে সেটি স্থাপিত হয়।

সূত্র জানায়, তরল জ্বালানি গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ করার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে ১১টি লাইসেন্স ও অনুমোদনপত্র প্রয়োজন হয়। আর তা ব্যবসা শুরুর আগেই সংগ্রহ করতে হবে। যার মধ্যে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্র, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের অনুমতিপত্র, বাংলাদেশ এসজি রেগুলটরি কমিশনের লাইসেন্স, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েডের ইজারাপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, তিতাস গ্যাস অফিসের সম্মতিপত্র, সিলিন্ডার টেস্টিং রিপোর্ট, পৌরসভা অথবা ইউপি’র সম্মতিপত্র প্রভৃতি প্রয়োজন হয়।

অথচ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব কাগজপত্র ছাড়াই একটি পার্কিং কাভার্ডভ্যানে অনেকগুলো গ্যাস সিলিন্ডার রেখে প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছিল বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

হাজিরহাট বাজার ব্যাবসায়ীরা জানান,নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা না করে এখানে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস ফিলিং সেন্টার স্থাপন করায় তারা খুবই আতংকে ছিলেন। যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা ছিল বলে জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সাথে সখ্য থাকায় সহজে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওই স্থানে গ্যাস ফিলিং সেন্টারের ব্যবসা চালানো হচ্ছিল।

এ ব্যাপারে হারুনুর রশিদ মোল্লা নামের ফিলিং স্টেশনটির স্বত্বাধিকারীদের একজন বলেন, অনেকেই কাগজপত্র ছাড়া এ ব্যবসা করছে।সেখানে কেউ কিছু করতে পারছেনা।

জানতে চাইলে চর ফলকন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী হারুনুর রশিদ মুঠোফোনে জানান, গ্যাস ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করতে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সম্মতিপত্র গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া প্রয়োজনীয় অন্য কোনো কাগজপত্রাদিও তারা সংগ্রহ করেনি বলে জানান তিনি। তাই ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে তিনি অবৈধ এ গ্যাস ফিলিং স্টেশনটি উচ্ছেদের জন্য সহমত প্রকাশ করেন।

কমলনগর উপজেলার ইউএনও ইমতিয়াজ হোসেন মুঠোফোনে জানান, ওই গ্যাস ফিলিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়টি তাঁর জানা আছে। তবে কোনো কাগজপত্রাদি আছে কিনা সেটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, একই রকম গ্যাস ফিলিং স্টেশন রামগতি-রামগঞ্জসহ আরো কয়েকটি স্থানে চলছে। তারপরও দুই-তিন দিন পরে তাদেরকে ডেকে জানতে চাওয়া হবে অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্রাদির বিষয়ে।

আশ্চর্যের কথা হলো এদিন রাতের আঁধারে ওই অবৈধ গ্যাস ফিলিং স্টেশনটি উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইউএনও’র জানা নেই বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত